১৯ ফুটের বিশাল গর্ত! চীনের মহাপ্রাচীরের এ কী দশা হলো? বড় পদক্ষেপ প্রশাসনের

বিশ্বের অন্যতম আশ্চর্য তথা প্রাচীন ঐতিহাসিক কীর্তি চীনের মহাপ্রাচীরের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় বিপত্তির খবর সামনে এল। চীনা সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, ঐতিহাসিক এই প্রাচীরটিতে প্রায় ১৯ ফুট (৬ মিটার) চওড়া একটি বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রাচীরের ঠিক পাশেই অবৈধ খনি খনন কার্যক্রম চালানোর ফলেই এই মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সে দেশের কর্মকর্তারা। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত খনি সংস্থাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করার পাশাপাশি তাদের আধিকারিকদের আটক করা হয়েছে।
কীভাবে তৈরি হলো এই গর্ত?
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি (CCTV)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুওজিয়ায়াও প্রদেশে মহাপ্রাচীরের এই ক্ষতির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। ওই এলাকায় ২০০৭ সাল থেকেই কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু চুক্তিবদ্ধ সংস্থাটি খনি খননকালে প্রাচীরটির নিরাপত্তা রক্ষা তো দূরের কথা, ন্যূনতম সতর্কতাটুকুও অবলম্বন করেনি।
প্রথমে ২০১৫ সালে প্রথম একটি ছোটখাটো ফাটল বা গর্ত নজরে এলেও তা বাড়তে বাড়তে বর্তমানে প্রায় ১৯ ফুটে (৬ মিটার) গিয়ে ঠেকেছে। সরকারি তদন্তে জানা গেছে, খনির বর্জ্য বা জঞ্জাল ফেলার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত অবহেলা ও বেপরোয়াভাবে মহাপ্রাচীরের গায়ে এই গর্ত করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন এবং তড়িঘড়ি কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। অভিযুক্ত খনি কোম্পানিটিকে প্রায় দেড় লক্ষ ডলার জরিমানা করা হয়েছে এবং সংস্থার দায়িত্বে থাকা কর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মহাপ্রাচীরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও কঠোর আইনি সুরক্ষা
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যে (১৩৬৮ থেকে ১৬৪৪ খ্রিস্টাব্দে) নির্মিত এই বিখ্যাত প্রাচীরটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২১,০০০ কিলোমিটার এবং এটি উত্তর চীন জুড়ে বিস্তৃত। চীনের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হওয়ার পাশাপাশি দেশের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
ইতিহাসের এই অনন্য নিদর্শনকে সুরক্ষিত রাখতে ২০০৬ সালেই একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করেছিল চীন সরকার। সেই আইন অনুযায়ী, মহাপ্রাচীরের কোনো ধরনের ক্ষতিসাধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি অনুমতি ছাড়া প্রাচীরের চারপাশের নির্দিষ্ট এলাকায় যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজ চালানোও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজনে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নির্মাণ করা গেলেও প্রাচীন এই দেয়াল ভাঙা বা এর ক্ষতি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। খনি সংস্থার এই বেপরোয়া কাণ্ডের পর প্রাচীন সৌধগুলির সুরক্ষায় আরও বেশি কড়া নজরদারি চালাচ্ছে শি জিনপিং প্রশাসন।