রাতের অন্ধকারে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি! বোলপুরে হাড়হিম করা কায়দায় খুন বিজেপি নেতা

রাতের অন্ধকারে বাইকে চেপে এসে একেবারে কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হল এক বিজেপি নেতাকে। বীরভূমের বোলপুর শহরের ত্রিশূলাপট্টির মিলপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নিহত চন্দন ভল্লা (৪৭) বোলপুর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ২০২ নম্বর বুথের বিজেপি সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে মুহুরির কাজ করার পাশাপাশি জমি কেনাবেচার ব্যবসায়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার এবার হাতে নিয়েছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা CID এবং STF।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে একটি জমি সম্ভাব্য ক্রেতাকে দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন চন্দনবাবু। অভিযোগ, সেই সময় বাইকে করে দুই দুষ্কৃতী এসে তাঁকে খুব কাছ থেকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে চম্পট দেয়। গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই বিজেপি নেতা। ঘটনার পরেই বোলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নিহতের ছোট ছেলে শুভ্রকান্তি ভল্লা।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সোমবার সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলা পুলিশ সুপার বিদীত রাজ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকরা। আসানসোল থেকে নিয়ে আসা হয় পুলিশ কুকুর ‘লাকি’-কে। জার্মান শেফার্ড ওই কুকুরটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে আরতি সিনেমা মোড় পর্যন্ত গিয়ে দুষ্কৃতীদের পালানোর সম্ভাব্য পথ চিহ্নিত করে। পাশাপাশি, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে রক্তের নমুনা, জুতোর ছাপ এবং বাইকের চাকার দাগ সংগ্রহ করেছেন।
তদন্তকারীরা আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিহতের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট খতিয়ে দেখছেন। খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক কোন্দল নাকি জমি সংক্রান্ত কোনও পুরনো শত্রুতা কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন সকালেও তাঁদের বাড়িতে কয়েকজন বিজেপি কর্মী এসেছিলেন। সেই সূত্র ধরে দলের অন্দরের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড হয়ে মুঙ্গেরের বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র বাংলায় ঢোকার কোনো যোগ আছে কিনা, তা নিয়েও চলছে জোরদার তল্লাশি।