পুজোয় কি বৃষ্টিতে ভাসবে মণ্ডপ? মহালয়া থেকে দশমী—কী রয়েছে ভাগ্যে? জানুন আবহাওয়ার বড় আপডেট

পুজো মানেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব, আর সেই সঙ্গে প্রতি বছর মনে একটাই প্রশ্ন উঁকি দেয়—পুজোয় কি বৃষ্টি হবে? ক্যালেন্ডারে শরৎকাল এলেও আকাশে কালো মেঘের রাজত্ব দেখে প্যান্ডেলের বাঁশ বাঁধা শেষ হলেও মনে থেকেই যায় হাজারও চিন্তা। আবহাওয়া দফতর বা আইএমডি এখনও আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস না দিলেও, বিশিষ্ট আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা বিভিন্ন নিউমেরিক্যাল ওয়েদার মডেল বিশ্লেষণ করে পুজো ও মহালয়ার একটি প্রাথমিক পূর্বাভাস দিয়েছেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
আবহবিদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের দুর্গাপুজোয় টানা বৃষ্টির আশঙ্কা কিছুটা কম থাকলেও মেঘ ও রোদের লুকোচুরি খেলা চলবে। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া। ওই দিন আকাশ মূলত আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং বিকেলের দিকে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু মহালয়ার দিনই বেশিরভাগ প্রতিমা মণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হয়, তাই এই পূর্বাভাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এরপর মহালয়া থেকে চতুর্থী অর্থাৎ ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থাৎ পুজোর দিনগুলিতে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি কেমন থাকবে, তা নিয়ে বিশদ তথ্য মিলেছে:
পঞ্চমী (১৬ অক্টোবর): এই দিন আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বেশ চড়া থাকতে পারে। কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করবে।
ষষ্ঠী ও সপ্তমী (১৭ ও ১৮ অক্টোবর): এই দুই দিন আকাশ মূলত মেঘলা থাকার সম্ভাবনা প্রবল। মূলত বঙ্গোপসাগরের বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বৃষ্টির মাত্রা। তবে দুপুরের পর কিংবা সন্ধ্যার দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অষ্টমী ও নবমী (১৯ ও ২০ অক্টোবর): এই দুদিন বাতাসে আর্দ্রতা ও ভ্যাপসা গরম বেশি থাকতে পারে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলির কিছু অংশে বিকেলের দিকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ থেকে ৩৩ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকতে পারে।
দশমী (২১ অক্টোবর): বিজয়া দশমীর দিন আবহাওয়া কিছুটা স্বস্তিদায়ক থাকতে পারে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিকেলের পর হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা একেবারে বাতিল করা যাচ্ছে না, যেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুজো আসতে এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকায় আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে রদবদল ঘটার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তাই উৎসবের আনন্দ মাটি হওয়া থেকে বাঁচাতে এখন থেকেই আবহাওয়ার খবরের দিকে কড়া নজর রাখা জরুরি।