‘কুণাল যত ভাষণ দেবেন, তত মার খাবেন!’ ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসেই মেজাজ হারালেন দিলীপ ঘোষ, ঝড়ে কাঁপছে রাজ্য রাজনীতি

সপ্তাহের শুরুতেই প্রাতঃভ্রমণে এসে একেবারে ঝোড়ো মেজাজে ধরা দিলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। ইকো পার্কে হাঁটতে এসে রবিবার এসআরএফটিআই (SRFTI) ঘটনা থেকে শুরু করে কুণাল ঘোষের উপর হামলা, বোলপুরের বুথ সভাপতির খুন এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে বর্তমান রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন এই দুঁদে নেতা।
১) কুণাল ঘোষের বারবার আক্রান্ত হওয়া প্রসঙ্গে:
কুণাল ঘোষের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় অত্যন্ত তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কুণাল ঘোষ যত ভাষণ দেবেন মানুষের রাগ তত বাড়বে। বাকি নেতারা তো ডিম খাচ্ছে না, উনিই বারবার খাচ্ছেন কেন? একটু সাবধানে থাকুন। মানুষ যে রায় দিয়েছে তা মেনে নিন। আপনি বেলেঘাটায় জিতেছেন, আর সেখানেই যদি পাবলিক আপনাকে ডিম মারে, তাহলে আপনি যাবেন কোথায়? যখন মানুষ অস্তিত্ব সঙ্কটে ভোগে, তখন এই ধরনের উল্টোপাল্টা কথা বলে। আসল কথা হলো, আপনারা মিডিয়া ওনাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।”
২) SRFTI-এর ঘটনা ও বহিরাগত তত্ত্ব:
সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এর সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে বলতে গিয়ে দিলীপ বলেন, “বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং দেশবিরোধী শক্তি এতদিন ধরে বাংলায় সক্রিয় ছিল এবং প্রাক্তন সরকারের ছত্রছায়ায় বেঁচে ছিল। তারা এখন একে একে এক্সপোজ হয়ে যাচ্ছে। দেশের সংস্কৃতি এবং পরম্পরা বিরোধী কার্যকলাপ মানুষ আর মেনে নেবে না। নকশাল আমলে মহাপুরুষদের ছবিতে কালি লাগানো বা মূর্তি ভেঙে দেওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, তার কিছু উত্তরসূরি এখনও বেঁচে রয়েছে। যারা এই কাজ করেছে, তারা সম্পূর্ণ সমাজবিরোধী কার্যকলাপ চালিয়েছে এবং এটি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
৩) বোলপুরে বিজেপি বুথ সভাপতির মৃতদেহ উদ্ধার:
বোলপুরের মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এটি অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। এখনও বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা ঘটে চলেছে, যা আমাদের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর বিষয়টি দেখছে এবং আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।”
৪) মমতার নতুন ভরসা সিপিএম ও রাজনৈতিক সমীকরণ:
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “মমতার উপরেই তো কেউ ভরসা করে না। উনি মাসে মাসে ভরসা পাল্টান। এখন দেখার উনি কার হাত ধরে বাঁচেন, কারণ ওনার কাছে এখন খড়কুটোই সম্বল।”
৫) হরিদেবপুরের ক্লাবে দুষ্কৃতী হামলা ও অন্যান্য ইস্যু:
হরিদেবপুরের অজেয় সংহতি ক্লাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা এবং বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপানোর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এখন যেকোনো ঘটনায় বিজেপির দিকে দায় ঠেলে দেওয়াটাই একটা সহজ পন্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বিজেপির এই সমস্ত কাজে কোনো রুচি নেই। যাঁরা গত ৫০ বছর ধরে বাংলায় হিংসার রাজনীতি চালিয়ে এসেছে, আসল অপরাধীদের খুঁজে বের করতে একটু সময় তো লাগবেই।” এছাড়া ব্যাঙ্ক ধর্মঘট স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “কথায় কথায় ধর্মঘট করা একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব।” সবমিলিয়ে, দিলীপ ঘোষের এই একের পর এক মন্তব্য যে আসন্ন দিনে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করবে, তা বলাই বাহুল্য।