পর্যটন দিবসে বাংলায় টাকার বন্যা! ১২,৫৩৪ কোটি টাকার বিশাল বিনিয়োগে রাতারাতি বদলে যাচ্ছে রাজ্যের ভাগ্য

বিশ্ব পর্যটন দিবসের শুভ লগ্নে রাজ্যের পর্যটন শিল্পে এল এক ঐতিহাসিক সুখবর। এক লাফে ১২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশের প্রথমসারির বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে রাজ্যে প্রায় ২২ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রবল আশাবাদী রাজ্য সরকার।
রবিবার পর্যটন দফতরের তরফে একটি উচ্চপর্যায় বৈঠকের আয়োজন করা হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি হর্ষ নেওটিয়া এবং আইটিসি (ITC)-র শীর্ষ আধিকারিকসহ একাধিক হেভিওয়েট বিনিয়োগকারী। ওই বৈঠকেই এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের প্রস্তাব আসে। রাজ্যের পর্যটনের সামগ্রিক উন্নয়ন, পর্যটন কেন্দ্রগুলির আধুনিক সৌন্দর্যায়ন এবং পরিকাঠামোর ব্যাপক প্রসার ঘটাতে এদিনের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
পাশাপাশি, রাজ্যের স্বাস্থ্য ও শিল্প ক্ষেত্রেও এদিন এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। নিউটাউনের সিলিকন ভ্যালিতে প্রায় ২ হাজার শয্যা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভূমিপুজো ও শিলান্যাস সম্পন্ন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গেই উপস্থিত ছিলেন শিল্পপতি গৌতম আদানি। শুধু হাসপাতাল নয়, রাজ্যে শিল্পের প্রসার ও বিনিয়োগ টানতে আলিপুরে মুখ্যমন্ত্রী ও গৌতম আদানির মধ্যে দীর্ঘক্ষণ অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠকও হয়।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে আগামী দিনের বড় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি জানান, “আমরা ২০৩৫ সালের মধ্যে রাজ্যে ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করার আশা রাখছি।” বন্দর, লজিস্টিক, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ, সড়ক, সেতু, রোপওয়ে, সিমেন্ট এবং হাইপার স্কিল ডাটা সেন্টার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে এই বিশাল বিনিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। উল্লেখ্য, এই হাসপাতালের শিলান্যাস অনুষ্ঠানের ফাঁকেই রাজ্য সরকার ও আদানি গোষ্ঠীর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাপত্র বা ‘মউ’ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বাংলার শিল্প মানচিত্রে নতুন মাইলফলক হতে চলেছে।