পেশীবহুল শরীর বানানোর অন্ধকার সত্যি ফাঁস! স্টেরয়েডের নেশা ও বুলিমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ংকর অভিজ্ঞতা শোনালেন স্ট্যালোন!

বিশ্বজুড়ে অ্যাকশন ঘরানার সিনেমার সংজ্ঞা যিনি চিরতরে বদলে দিয়েছিলেন, সেই কিংবদন্তি হলিউড তারকা সিলভেস্টার স্ট্যালোন জীবনের ৮০ বসন্তে পা দিয়ে নিজের অতীত নিয়ে এক বিস্ফোরক সত্যি প্রকাশ্যে এনেছেন। ‘রকি’ কিংবা ‘র‍্যাম্বো’-র মতো কালজয়ী চরিত্রে পর্দায় ঝড় তোলার জন্য নিজের শরীরকে নিয়ে তাঁকে কতটা চরম কৃচ্ছ্রসাধন করতে হয়েছিল, তা শিউরে ওঠার মতো। সেই ‘পারফেক্ট’ অ্যাকশন হিরোর বডি তৈরি করতে গিয়ে শরীরচর্চার পাশাপাশি মাত্রাতিরিক্ত স্টেরয়েড গ্রহণ এবং ‘বুলিমিয়া’ (Bulimia) নামের মারাত্মক ইটিং ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হওয়ার কথা খোলামেলা স্বীকার করেছেন এই বিশ্বখ্যাত প্রবীণ অভিনেতা। সম্প্রতি ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই অন্ধকার দিনগুলোর অজানা অধ্যায় তুলে ধরেছেন তিনি।

আটের দশকে খ্যাতির একেবারে শিখরে থাকার সময় নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে একপ্রকার ঘোরে চলে গিয়েছিলেন স্ট্যালোন। নিখুঁত চেহারায় থাকার জন্য নিজেকে অসম্ভব কড়া সব নিয়মে বেঁধে ফেলেছিলেন তিনি। পুরনো সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে স্ট্যালোন জানান, “আমার শরীরটাই সেই সময় আমার কাছে এক অদৃশ্য বর্ম হয়ে উঠেছিল। প্রথম দিকে ‘রকি’ চরিত্রটি ছিল অত্যন্ত সাধারণ একজন যুবকের। কিন্তু পরে মনে হলো, চরিত্রটিকে কিছুটা বেশি আত্মমুগ্ধ ও আক্রমণাত্মক দেখানো দরকার। অন্যদিকে, ‘র‍্যাম্বো’ তো একজন দুর্ধর্ষ যোদ্ধা, তাই ওর শরীর হওয়া দরকার ছিল জ্যাগুয়ার কিংবা মার্জার পরিবারের মতো নমনীয় অথচ অসম্ভব শক্তিশালী।”

বুলিমিয়া এবং স্টেরয়েডের অন্ধকার জগৎ

এই ভাবনা থেকেই শুরু হয়েছিল কঠিন শরীরচর্চা আর খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্মম নিয়ন্ত্রণ। স্ট্যালোন অকপটে জানান, “এটা একসময় আমার অসুস্থ নেশায় পরিণত হয়েছিল। ‘রকি ৩’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় আমার শরীরের ফ্যাটের পরিমাণ কমে মাত্র ২.৬ শতাংশে নেমে এসেছিল! অবস্থা এতটাই শোচনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে আমি বুলিমিয়ায় আক্রান্ত হই; পেটে কোনো খাবারই টিকত না, খেয়েই বমি করে ফেলতাম।”

একই সঙ্গে রকি ফ্র্যাঞ্চাইজির ছবিগুলোতে চূড়ান্ত শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে তিনি যে নিয়মিত স্টেরয়েড ব্যবহার করতেন, তা-ও স্বীকার করে নেন অভিনেতা। প্রাকৃতিকভাবে অতিরিক্ত পেশীবহুল শরীর তৈরির দাবিকে সরাসরি ভুয়া আখ্যা দিয়ে স্ট্যালোন বলেন, “ওষুধ বা এই জাতীয় আসক্তি তৈরি করে এমন উপাদান ছাড়া অতটা ফিট হওয়া স্রেফ অসম্ভব। কেউ যদি দাবি করে যে মাত্র ৬ মাস ধরে শুধু দই আর পুডিং খেয়ে অমন পেশীবহুল চেহারা বানিয়ে ফেলেছে, তবে তা সম্পূর্ণ বাজে কথা! প্রকৃতির কোনো বিশেষ বরপুত্র ছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষে ন্যাচারালি সেটা করা অসম্ভব। তবে যা-ই করো না কেন, সবকিছুই খুব সচেতনভাবে করা উচিত।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *