‘মাঝারি আয়ের পরিবারে বিরাট ধাক্কা নাকি বড় সুযোগ?’ ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতীয় বাজারে আসছে কত লক্ষ কোটির জোয়ার?

দেশের কনজ্যুমার ডিউরেবলস বা গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজারে এক অভূতপূর্ব বৃদ্ধির পূর্বাভাস মিলল। বোस्टन কনসল্টিং গ্রুপ (BCG) এবং ভারতীয় শিল্প মহোৎসব (CII)-এর সাম্প্রতিক যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের এই বাজার ৩ থেকে ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার বিরাট অঙ্কে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরে পার্টস এবং কাঁচামাল উৎপাদনে প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৫০,০০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত লভ্যাংশ বা মূল্য সংযোজনের সুযোগ তৈরি হবে।
কেন বাড়ছে বাজারের আকার? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল কনজ্যুমার ডিউরেবলস বাজারের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রাখবে ভারত। পরিবারগুলির আয় বৃদ্ধি, সহজে লোন পাওয়ার সুবিধা, আধুনিক জীবনযাত্রা এবং প্রিমিয়াম পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদাই এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি। বিশেষ করে রুম এয়ার কন্ডিশনার (RAC), ফ্রিজ ও ওয়াশিং মেশিনের চাহিদা দেশজুড়ে হু হু করে বাড়ছে। তবে চিনের মতো দেশের তুলনায় ভারত এখনও এক্সপোর্ট বা রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে যন্ত্রাংশ তৈরির ক্ষমতা না বাড়ালে এই সুযোগের বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমেই পূরণ করতে হতে পারে।
রপ্তানি ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ: বর্তমানে বিশ্ব বাজারে ভারতের অংশীদারিত্ব এক শতাংশেরও কম। মূলত প্রতিবেশী দেশ এবং গুটিকয়েক অঞ্চলে পণ্য রপ্তানি সীমাবদ্ধ থাকলেও, থাইল্যান্ডের মতো সফল দেশগুলির উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতকে এখন ব্যাকওয়ার্ড ইন্টিগ্রেশন এবং পলিসি সাপোর্টের ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, দেশীয় কোম্পানিগুলিকে কেবল উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণা এবং ডেভেলপমেন্ট বা (R&D) বাজেটে আরও বেশি বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে ভারতের প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পথ প্রশস্ত করবে।