‘যাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করে জন্ম, আজ তাঁদের সঙ্গেই বৈঠক!’ মমতার রাজনৈতিক ইউ-টার্ন নিয়ে সরব শুভেন্দু

বাংলা রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাসের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট, তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম ও উত্থান হয়েছিল সম্পূর্ণভাবে ৩৪ বছরের বাম শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইকে সামনে রেখে। যাঁদের সঙ্গে দশকের পর দশক ধরে রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক সংঘাত চলেছে, আজ সেই সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন এবং বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের ডাক দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রীরামপুরের সভা থেকে তাঁর স্পষ্ট বার্তা—”কে লাল, কে হলুদ, কে নীল—এখন তা দেখার সময় নয়, সবাই এখন এক।” আর এই রাজনৈতিক সমীকরণ বদল ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কেরিয়ারে জোট বদল বা সমীকরণ পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। অতীতে তিনি যেমন কখনও বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দিয়ে রেলমন্ত্রী হয়েছেন, তেমনই আবার কংগ্রেসের ইউপিএ সরকারের অংশও হয়েছেন। কিন্তু বাংলার মাটিতে তাঁর মূল রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি হয়েছিল তীব্র বাম-বিরোধিতার ওপর ভর করে। ২০১১ সালে সেই বামফ্রন্টকে হটিয়েই রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন এবং স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) সংক্রান্ত ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলিকে একজোট করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার জেরে চিরশত্রু বলে পরিচিত বামেদের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রস্তাবিত ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের বৈঠকেও একসঙ্গে লড়াইয়ের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই এই অবস্থান বদল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তীব্র আক্রমণ শানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যে সিপিএমের দীর্ঘ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হয়েছিল, আজ রাজনৈতিক স্বার্থে কীভাবে সেই দলকেই ফের বন্ধু বানিয়ে নিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো? অন্যদিকে, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা বাংলার বাম শিবিরের অন্দরেও এই সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, আদর্শগত বিরোধকে দূরে সরিয়ে রাজনৈতিক প্রয়োজনের খাতিরে এই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।