“টানা ৩ দিন বন্ধ থাকার আগে আজ উপচে পড়া ভিড়!” ছুটির দিনেও হঠাৎ ব্যাঙ্ক খোলা রাখার আসল কারণ কী?

রবিবারের চেনা ছুটির আমেজ ছাপিয়ে আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খোলা রয়েছে ব্যাঙ্কগুলি। আর সকাল ১০টা বাজতেই শাখাগুলিতে উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ার মতো। কিন্তু হঠাৎ কেন ছুটির দিনে ব্যাঙ্ক খোলার নির্দেশ দিল প্রশাসন? জানা যাচ্ছে, আগামী সোমবার থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী টানা তিনদিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘট এবং গ্রাহকদের সম্ভাব্য চরম ভোগান্তি এড়াতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আগামীকাল, সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী দেশজোড়া ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন। সপ্তাহে পাঁচ দিন কর্মদিবস এবং শনি ও রবিবার ছুটির প্রধান দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর জেরে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত টানা তিন দিন ব্যাঙ্কের শাখাগুলি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ফলে চেক জমা দেওয়া, পাসবুক আপডেট করা কিংবা টাকা তোলার মতো সাধারণ কাজগুলি এই কদিন বন্ধ থাকবে। যদিও অনলাইন পরিষেবা এবং এটিএমগুলি চালু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রবিবারেও ব্যাঙ্ক খোলার কারণ কী?
চলতি মাসের শুরুতেই একবার এক দিনের ধর্মঘট পালিত হয়েছিল, যা বিশেষ প্রভাব ফেলেনি। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। গত শনিবার চতুর্থ শনিবার হওয়ায় এমনিতেই ব্যাঙ্ক বন্ধ ছিল। আজ রবিবারও যদি ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকত, তবে একটানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের সমস্ত কাজ থমকে যেত। সাধারণ মানুষের এই বিপুল সমস্যা এড়াতেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে রবিবার ব্যাঙ্ক খোলা রাখার জরুরি নির্দেশ জারি করা হয়।
গ্রাহকদের স্বস্তি ও উদ্বেগ
টানা তিন দিন ধর্মঘট চলার পর আগামী বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্ক খুললেও, পরদিন শুক্রবার অর্থাৎ ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর ছুটির কারণে ফের ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে। স্বাভাবিকভাবেই সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে চরম চাপ ও ভিড় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে মাসের শেষে পেনশনভোগী এবং সাধারণ চাকরিজীবীদের অ্যাকাউন্টে টাকা আসার সময়ে এই ধর্মঘট থাকায় লেনদেন নিয়ে অনেকেই বেশ চিন্তায় ছিলেন। তবে ছুটির দিনেও ব্যাঙ্ক খোলা পাওয়ায় বহু গ্রাহক স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং আজ সকালেই নিজেদের জরুরি কাজগুলি সেরে নিচ্ছেন।