“জঙ্গিরা তাকালে কড়া জবাব!” মন কি বাতে সার্জিকাল স্ট্রাইক থেকে সোমনাথ মন্দির নিয়ে হুঙ্কার মোদীর

দেশবাসীর কাছে আরও একবার মনের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর সম্প্রচারিত হলো তাঁর জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৮তম পর্ব। আকাশবাণী ও দূরদর্শন নেটওয়ার্কের পাশাপাশি ইউটিউব চ্যানেলেও সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এই অনুষ্ঠান। আজকের পর্বে দেশের নিরাপত্তা, ঐতিহাসিক মাইলফলক এবং ডিজিটাল জনগণনা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন ভারতীয় সেনার ঐতিহাসিক পরাক্রমের কথা। ঠিক ১০ বছর আগে, ২০১৬ সালের ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ভারতীয় সেনা। সেই সার্জিকাল স্ট্রাইকের সাফল্যের কথা তুলে ধরে মোদী বলেন, নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে গিয়ে সেনা যে বীরত্ব দেখিয়েছিল, তাতে চমকে গিয়েছিল গোটা বিশ্ব। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান যে চিরতরে বদলে গেছে, এই অভিযান তারই প্রমাণ।

বিগত এক দশকের বিভিন্ন সামরিক সাফল্যের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক হোক কিংবা পরবর্তী অন্যান্য অভিযান, ভারত বারবার বুঝিয়ে দিয়েছে যে দেশের দিকে চোখ রাঙালে তার উপযুক্ত জবাব মিলবে। একসময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত সিরিয়াল বিস্ফোরণ ঘটত। ২০০৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির ধারাবাহিক বিস্ফোরণ এবং ঠিক তার পরেই মুম্বইয়ের ২৬/১১ হামলার ভয়াবহ স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে শুধু পাকিস্তানের ওপর তদন্তের দাবি জানানো হলেও ফল মিলত না। কিন্তু আজকের ভারত সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী।

আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ওই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে মার্কিন নাগরিকদের পরেই সর্বাধিক ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম মার্কিন সফরে গিয়ে তিনি ওই নির্দোষ মানুষদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।

নিরাপত্তার পাশাপাশি এদিনের ভাষণে দেশের জনগণনা প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ইতিমধ্যেই জনগণনার প্রথম পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ৩২ কোটি মানুষের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষ এখন নিজেদের মোবাইল ফোন থেকেই অনলাইন পোর্টালে গিয়ে সহজেই তথ্য আপলোড করতে পারবেন। এর জন্য অতিরিক্ত কোনো নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। জনগণনার কর্মীরা বাড়িতে এলে শুধু নিজেদের আইডি নম্বরটি জানিয়ে দিলেই চলবে।

পাশাপাশি আজকের দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অশোক সিংঘলজির জন্মবার্ষিকী। অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের ক্ষেত্রে তাঁর দেখানো দিশার কথাই স্মরণ করেন মোদী। এছাড়া আজকের দিনেই ঠিক এক হাজার বছর আগে, অর্থাৎ ১০২৬ সালে সোমনাথ মন্দিরে প্রথম আক্রমণ চালিয়েছিল মহম্মদ গজনি। সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা একদিন এই পবিত্র মন্দির ধ্বংস করতে চেয়েছিল, ইতিহাসে আজ তাদের কোনো অস্তিত্বই আর অবশিষ্ট নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *