২৪ দিনে ৫৫ শিশুর মৃত্যু! মালদা মেডিকেলে ভয়ংকর কাণ্ডের নেপথ্যে কী? চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড়!

ফের শিশুমৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ও গভীর উদ্বেগ ছড়িয়েছে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চলতি মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৫৫ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে একদিনেই সর্বোচ্চ পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা জেলাজুড়ে প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য মহলে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে।

তবে এই মৃত্যুর নেপথ্যে উঠে এসেছে এক আশঙ্কাজনক তথ্য। মালদা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত ৫৫ জন শিশুর মধ্যে ৩৫ জনই ছিল চরম অপুষ্ট এবং আশঙ্কাজনকভাবে কম ওজনের। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অপুষ্ট শিশু জন্মের মূল কারণ নাবালিকা বয়সে গর্ভধারণ ও সচেতনতার চরম অভাব।

স্বাস্থ্য দফতরের হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক রদবদল: উল্লেখ্য, গত অগাস্ট মাসেই মালদা মেডিকেলে ৮৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে গত ২৯ অগাস্ট রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতাল পরিদর্শনে আসে। এরপরই গত ৫ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের তৎকালীন মেডিকেল সুপার এবং শিশু বিভাগের প্রধানকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। নতুন মেডিকেল সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইএনটি (ENT) বিভাগের প্রধান ডাঃ গণেশচন্দ্র গাইনকে।

স্বাস্থ্য দফতরের কড়া নির্দেশিকা ও প্রশাসনিক রদবদলের পর মৃত্যুর গ্রাফ কিছুটা নিম্নমুখী হলেও, চলতি মাসে ফের ৫৫ শিশুর মৃত্যুতে চিন্তা বাড়িয়েছে।

মৃত্যুর মূল কারণ নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা: মালদা মেডিকেল কলেজের নতুন সুপার ডাঃ গণেশচন্দ্র গাইন জানান, মৃত ৫৫ শিশুর মধ্যে ৩৫ জনই ছিল অপুষ্ট। তিনি বলেন, “কম ওজন এবং নাবালিকা বয়সে গর্ভধারণের ফলেই অপুষ্ট শিশুর জন্ম হচ্ছে। এই বিপর্যয় এড়াতে পরিবারগুলোকে আরও সচেতন হতে হবে এবং গর্ভকালীন সময়ে নিয়ম মেনে শারীরিক পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।”

একই সুরে বিশিষ্ট শিশু চিকিৎসক অভিজিৎ মিশ্র জানান, “শিশুর সুস্বাস্থ্যের ভিত্তি হলো মায়ের সঠিক শারীরিক অবস্থা। মায়ের উপযুক্ত বয়স, সঠিক ওজন এবং নিউট্রিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুমৃত্যুর হার পুরোপুরি কমাতে গেলে দ্রুত বাল্যবিবাহ বন্ধে সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

রোগী কল্যাণ সমিতির বক্তব্য: বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি রোগী কল্যাণ সমিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত থেকে বিধায়ক তথা রাজ্য বিধানসভার মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ী বলেন, “মালদা মেডিকেলে শুধুমাত্র স্থানীয় নয়, বরং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও রাজ্য থেকেও প্রচুর আশঙ্কাজনক রোগী আসেন। অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি নার্সিংহোমগুলি শেষ মুহূর্তে সঙ্কটজনক অবস্থায় নবজাতকদের এখানে রেফার করে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” তিনি আরও জানান, অপুষ্ট শিশু ও বাল্যবিবাহ রুখতে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

হাসপাতাল চত্বরের পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে এখন কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর সকলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *