মণ্ডপে কি সময়মতো পৌঁছবেন মা দুর্গা? লাগাতার বর্ষণে মাথায় হাত মৃৎশিল্পীদের, ডায়মন্ড হারবারে আশঙ্কার মেঘ!

পুজো আসতে হাতে আর এক মাসও বাকি নেই। চারিদিকে বাজতে শুরু করেছে আগমনীর সুর। নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত এক করে উমার রূপদান করতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁদের স্বপ্ন ও পরিশ্রমের মাঝে খলনায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে নিম্নচাপের কালো মেঘ। গত কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টির জেরে দক্ষিণবঙ্গের নানা প্রান্তের মতোই স্তব্ধ হতে বসেছে ডায়মন্ড হারবারের কলাগাছিয়া এলাকার প্রতিমা গড়ার কাজ।
প্রতিমা তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো কাঁচা মাটি ভালোভাবে শুকানো। মাটি না শুকোলে তার ওপর রঙ করা বা দেবীর সাজসজ্জা পরাণো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে টানা বৃষ্টির কারণে রোদের দেখা মেলেনি বহুদিন। ফলে ভিজে প্রতিমা শুকোতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে, যা স্বাভাবিক কাজের গতিকে এক ধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
কলাগাছিয়ার মৃৎশিল্পী সুশান্ত চিত্রকর অত্যন্ত দুশ্চিন্তার সঙ্গে জানান, “গভীর নিম্নচাপের জেরে আকাশ মেঘলা এবং একটানা বৃষ্টি চলছে। ফলে মাটির প্রতিমা শুকোতে চাইছে না। বহু পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা একের পর এক ফোন করে জানতে চাইছেন নির্ধারিত দিনে প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছবে কি না।” পরিস্থিতি সামাল দিতে প্লাস্টিক ও ত্রিপল দিয়ে ঢেকে কোনোমতে খড় বাঁধা বা মাটির লেপ দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তবে আবহাওয়া দ্রুত অনুকূল না হলে কৃত্রিম উপায়ে প্রতিমা শুকানোর পথ বেছে নিতে হবে শিল্পীদের। ব্লো ল্যাম্প বা হিটার ব্যবহার করে কাঁচা মাটি শুকোতে গেলে বাড়বে জ্বালানি ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচ, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মৃৎশিল্পীদের পকেটে। এর ওপর আবার প্রবল বৃষ্টির কারণে সময়মতো কাজে আসতে পারছেন না পর্যাপ্ত সংখ্যক কারিগর ও শ্রমিকরা।
অন্য এক শিল্পী সমর গায়েন জানান, এই পরিস্থিতিতে সময় ও অর্থের বিপুল অপচয় হচ্ছে। মণ্ডপে সময়মতো প্রতিমা না পৌঁছালে পুজো কমিটিগুলি বিপদে পড়বে, আবার প্রতিমার মান খারাপ হলেও দায় এসে পড়বে শিল্পীর ঘাড়েই।
শিল্পীদের একটাই আর্জি—আকাশের মেঘ কেটে কেটে গিয়ে দ্রুত রোদ উঠুক। প্রকৃতির এই অসুরের রূপ কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই উমাকে মণ্ডপে পৌঁছে দিতে এখন শুধুই আকাশের দিকে চেয়ে দিন গুনছেন ডায়মন্ড হারবারের শিল্পীরা।