একের পর এক গ্রাম নদীগর্ভে! ভাঙন রুখতে লঞ্চে চেঁপে মালদায় কানপুর ও খড়গপুর আইআইটির বিজ্ঞানীরা, চরম গোপনীয়তা ঘিরে শোরগোল

গঙ্গা ও ফুলহর নদীর সর্বগ্রাসী রূপের কাছে বছরের পর বছর ধরে দিশেহারা মালদাবাসী। একের পর এক বসতভিটে, বিঘার পর বিঘা চাষের জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার এই ভয়াবহ মানবিক সংকট থামাতে এবার ময়দানে নামল দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইআইটি (IIT)। ভাঙনের স্থায়ী সমাধান এবং বৈজ্ঞানিক নীল নকশা তৈরি করতে শনিবার এক যৌথ মেগা মিশনে মালদা জেলায় পৌঁছেছে আইআইটি কানপুর ও আইআইটি খড়গপুরের সাত সদস্যের এক বিশেষ বিশেষজ্ঞ টিম।
শনিবার সকালে আইআইটির চারজন খড়গপুর ও তিনজন কানপুরের বিজ্ঞানী সেচ দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের কাহালা গ্রাম পঞ্চায়েতের সূর্যাপুর ঘাট থেকে একটি বিশেষ লঞ্চে যাত্রা শুরু করেন। সেখান থেকে গঙ্গা ও ফুলহরের গতিপথ ধরে বিলাইমারি, মহানন্দটোলা এবং মানিকচকের ভূতনির চরের মতো মারাত্মক ভাঙনপ্রবণ অঞ্চলগুলি ঘুরে দেখেন তাঁরা।
বিশেষত মানিকচকের কালুটোনটোলায় যে বাঁধটি ভেঙে পুরো চর ভাসিয়ে দিয়েছিল, সেটিও পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে দেখেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। কিন্তু পুরো পরিদর্শন প্রক্রিয়াতেই বজায় রাখা হয় কড়া গোপনীয়তা। সংবাদমাধ্যমকে নিজেদের লঞ্চে ওঠার অনুমতি দেননি আইআইটির বিজ্ঞানীরা, এমনকি মুখ খোলেননি কোনো বিষয়েও।
প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার আগেই মালদা ও মুর্শিদাবাদের ভাঙন রুখতে ৩৬০০ কোটি টাকার বিশাল বাজেট বরাদ্দ করেছে, যার মধ্যে শুধু মালদার জন্যই বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১১০০ কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে নদী ভাঙন থেকে এই জেলাকে বাঁচাতে বৈজ্ঞানিক সাহায্য নেওয়া হবে।
জেলা সেচ দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, আইআইটির বিজ্ঞানীরা এই পরিদর্শনের উপর ভিত্তি করে একটি বিশদ সমীক্ষা রিপোর্ট (Report) তৈরি করবেন। নদীতে কীভাবে বোল্ডার ফেলা হবে, বাঁধের শক্তি কীভাবে বাড়ানো হবে বা নদীর গতিপথ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে—তার পুরো ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করবেন তাঁরা। এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত করার জন্য প্রয়োজনে প্রতিবেশী রাজ্য বিহার ও ঝাড়খণ্ডের সরকারের সঙ্গেও সমন্বয় রেখে কাজ চালানো হবে। আইআইটির এই বিশেষ রিপোর্টই এখন মালদার লাখো গৃহহীন মানুষের কাছে শেষ আশার আলো।