কুণালের গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর! অন্য পথে কড়া নিরাপত্তায় শ্রীরামপুর রওনা মমতা, ক্ষোভে ফুটছে রাজনীতি

উত্তরপাড়ায় হামলা এবং তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার পটভূমিতে হঠাৎ রুট পরিবর্তন করে শ্রীরামপুরে পৌঁছলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে কলকাতা থেকে স্বাভাবিক পথ অর্থাৎ উত্তরপাড়া হয়ে না গিয়ে, ডানকুনি দিয়ে দিল্লি রোড ধরে শ্রীরামপুরের সভাস্থলে যান তিনি। পুরো যাত্রাপথে রাজ্য পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রদান করা হয়।
ঘটনার সূচনা শনিবার দুপুরে, যখন শ্রীরামপুরে দলের সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। অভিযোগ, উত্তরপাড়ায় তাঁর গাড়ি আটকে এলোপাথাড়ি হামলা চালানো হয়। রড ও পাথর দিয়ে ভাঙচুর চালানো হয় গাড়ির কাঁচ, এমনকি ছোঁড়া হয় ডিমও।
হামলার ঘটনার পর ক্ষুব্ধ কুণাল ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যাতে আমি পৌঁছাতে না পারি, সেই কারণেই পরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ করা হয়েছে।” এরপরই তিনি সোজা ভবানী ভবনে যান। সেখানে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠলেও কুণাল স্পষ্ট জানান, তিনি লিখিত অভিযোগ জানাতে নয়, বরং গাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থা পুলিশকে দেখাতে গিয়েছিলেন। পুরো ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার দিকে আঙুল তুলে উত্তরপাড়া থানায় ইমেলের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
কুণাল ঘোষ যখন কলকাতায় ভবানী ভবনে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, ঠিক তখনই অন্যদিকে শ্রীরামপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ডানকুনি পথ বেছে নেয় প্রশাসন। এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিজেপির আশ্রিত গুন্ডারাই এই হামলা চালিয়েছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এক অশনিসংকেত।”
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উত্তরপাড়ায় দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।