তৃণমূলের অংক ভুয়ো! ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চরম বিপাকে জোড়াফুল শিবির?

পশ্চিমবঙ্গে সংক্ষিপ্ত ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার কারণে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ৩১টি আসনে পরাজয় ঘটেছে— জোড়াফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব ও রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের এই দাবিকে একঝটকায় খারিজ করে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সর্বোচ্চ আদালতে হলফনামা পেশ করে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, তৃণমূলের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও কাল্পনিক।
সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন যে পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে এই চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছিলেন, তার মৌলিক অংক এবং তথ্য বিশ্লেষণেই বড়সর গলদ রয়েছে। কমিশন শীর্ষ আদালতকে জানায়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পেছনে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি কারণ বা ‘ক্যাটাগরি’ থাকে। কিন্তু তৃণমূল প্রতিনিধিরা সেই পৃথক ক্যাটাগরিগুলোকে ভুলভাবে এক ছাতার তলায় এনে মনগড়া হিসেব তৈরি করেছেন।
আদালতে কমিশনের পাল্টা যুক্তি:
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতমূলকভাবে বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফলে। তবে এই অভিযোগ নস্যাৎ করে নির্বাচন কমিশন আদালতে জানিয়েছে:
-
নাম বাদ যাওয়ার প্রক্রিয়ায় একাধিক স্পষ্ট বিভাগ (যেমন: স্থানান্তরিত ভোটার, মৃত ভোটার, বা ভুয়ো ভোটার) থাকে। সবগুলোকে এক করে রাজনৈতিক রং দেওয়া নিয়মবিরুদ্ধ।
-
পরিসংখ্যানের ভুল ব্যাখ্যার ওপর ভর করে একটি নির্বাচিত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
-
কমিশনের গৃহীত সমস্ত সিদ্ধান্তই আইনানুযায়ী এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পাদন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই মামলাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতি ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পাল্টা তোপ, রাজনৈতিক হারের দায় আড়াল করতেই শাসকদলের তরফে এই ধরনের অসংলগ্ন যুক্তি সাজানো হচ্ছে। অন্যদিকে, শীর্ষ আদালতে কমিশনের এই কড়া অবস্থানের পর তৃণমূল কংগ্রেস এখন আইনি লড়াইয়ে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ মহল।