আমেরিকার মাটিতে জিনপিংকে ট্রাম্পের রাজকীয় স্বাগত! ৬ মাসের ব্যবধানে বৈঠকে বদলাবে বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ?

আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতির নজর এখন ওয়াশিংটনের দিকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে সস্ত্রীক আমেরিকায় পৌঁছালেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার স্থানীয় সময় অনুযায়ী ওয়াশিংটনের ‘জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রিউজ’-এ ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে চিনা প্রেসিডেন্ট ও তাঁর পত্নী পেং লিইউয়ানকে স্বয়ং লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

দুই রাষ্ট্রনেতার এই উষ্ণ কুশল বিনিময়কে আন্তর্জাতিক মহলে একটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, আমরা বন্ধু দেশ’

আমেরিকার মাটিতে পা রেখেই বার্তা দিয়েছেন চিনা প্রেসিডেন্ট। বেজিংয়ের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শি জিনপিং তাঁর লিখিত বিবৃতিতে স্পষ্ট জানান, চিন ও আমেরিকা পরস্পরের শত্রু বা প্রতিযোগী নয়, বরং বন্ধু দেশ হিসেবে কাজ করা উচিত। দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচনা করতে আমেরিকা ও চিন একসঙ্গে সঠিক পথ খুঁজে পাবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

তিনি মনে করিয়ে দেন, গত মে মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঐতিহাসিক বেজিং সফরের কথা। সেই সময় দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল ও গঠনমূলক কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার যে ভিত তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সফর তাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

৬ মাসের ব্যবধানে মেগা বৈঠক: টেবিলে বাণিজ্য থেকে AI

চলতি বছরে এটি ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের দ্বিতীয় বৈঠক। স্বাভাবিকভাবেই দুই পরাশক্তির শীর্ষ সম্মেলনের এজেন্ডায় রয়েছে একাধিক জটিল আন্তর্জাতিক বিষয়:

  • শুল্ক চুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর: আগামী নভেম্বরে শেষ হতে চলেছে দুই দেশের বাণিজ্য ও শুল্ক চুক্তির মেয়াদ। এছাড়া মাইক্রোচিপ ও উন্নত প্রযুক্তি রফতানির লাইসেন্স নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হতে পারে।

  • এআই ও ওপেন সোর্স তদারকি: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা, নতুন এআই মডেলের আগাম সূচনা এবং চিনের ওপেন সোর্স সিস্টেমগুলোর তদারকি নিয়ে দুই দেশের সহমত গঠন এই আলোচনার মূল অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

  • বিরল খনিজ পদার্থ ও অন্যান্য বিতর্ক: ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিরল খনিজ সরবরাহের ওপর থেকে রফতানি নিয়ন্ত্রণ হটানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তবে ‘অ-কৌশলগত’ পণ্যে শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। পাশাপাশি মেক্সিকোর মাদকের উপাদানের জোগাড় বন্ধে চিনের ওপর চাপ বজায় রাখবে আমেরিকা।

অক্টোবরের বুসান বৈঠকের পরবর্তী পর্যায়ে দাঁড়িয়ে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক বিশ্ব বাণিজ্য ও প্রযুক্তির ভবিষ্যত গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *