দুধ ছাড়া আর পনির তৈরি করলেই মুশকিল! নতুন খসড়া বিধিতে কড়া বার্তা FSSAI-এর

ভারতীয় সংস্কৃতিতে শেষ পাতে কিংবা নিরামিষ পদ হিসেবে পনিরের গ্রহণযোগ্যতা অতুলনীয়। তবে উৎসব কিংবা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পনিরের চাহিদা যত বাড়ছে, বাজারে নকল ও ভেজাল পনিরের রমরমা ঠিক ততটাই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃত্রিম রাসায়নিক ও ক্ষতিকারক উপাদান দিয়ে তৈরি বিকল্প পনিরের ভিড়ে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ক্রেতাস্বার্থ সুরক্ষিত করতে এবং আসল খাবারের মান বজায় রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক নতুন খসড়া প্রস্তাবে খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, খাঁটি দুধ থেকে উৎপাদিত না হলে কোনো খাবারকেই আর ‘পনির’ নামে বাজারে বিক্রি করা যাবে না।

নতুন বিধিতে কী কী থাকছে?

FSSAI-এর এই নির্দেশিকাটি মূলত ২০১১ সালের ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (প্রোহিবিশন অ্যান্ড রেস্ট্রিকশনস অন সেলস) রে룺লেশনস’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী। ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত বিধির ২.১.১ ধারা অনুযায়ী:

  • দুধের উপাদান আবশ্যক: দুধের বাইরের কোনো ভেজাল বা কৃত্রিম উপাদান ব্যবহার করে তৈরি খাদ্যবস্তুর গায়ে ‘পনির’ শব্দটির ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হতে চলেছে।

  • ব্র্যান্ড ও লেবেলিংয়ে নিষেধাজ্ঞা: যেসব প্রস্তুতকারক সংস্থা আগে ‘অ্যানালগ ইন ডেইরি কনটেক্সট’ (Analogue in Dairy Context) বিভাগে লাইসেন্স পেয়েছিল, তারা আর নিজেদের প্যাকেজিং, বিজ্ঞাপন কিংবা ব্র্যান্ডিংয়ে সরাসরি ‘পনির’ লিখতে পারবে না।

  • স্বচ্ছ খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা: ক্রেতারা যেন সঠিক পণ্য চিনে কিনতে পারেন এবং থালায় কী খাবার যাচ্ছে তা নিয়ে কোনো ধোঁয়াশা না থাকে, সেই উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ।

মতামত জানানোর সুযোগ সাধারণ মানুষের

বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনক্রমে এই খসড়া বিজ্ঞপ্তিটি পেশ করা হয়েছে। সাধারণ নাগরিক এবং এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে মতামতের আহ্বান জানানো হয়েছে। গেজেটে প্রকাশের দিন থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে যেকোনো নাগরিক তাদের যুক্তি বা আপত্তি লিখিত আকারে পাঠাতে পারবেন।

মতামত পাঠানোর ঠিকানা:

চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI), এফডিএ ভবন, কোটলা রোড, নয়াদিল্লি – ১১০০০২। এছাড়া নির্দিষ্ট ইমেল মারফতেও মতামত জানানো সম্ভব।

খাদ্য বিশারদদের মতে, এই নিয়ম কার্যকর হলে ভারতীয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও দুগ্ধশিল্পে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ক্রেতারা যেমন প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবেন, তেমনই কৃত্রিম ভেজাল দ্রব্যের দাপটও অনেকটাই হ্রাস পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *