ইলন মাস্কের ‘গ্রোক’-কে বিভ্রান্ত করে ভয়ংকর কাণ্ড! এআই চ্যাটবট দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিক বোমা

প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি মানবসভ্যতাকে যখন নিত্যনতুন উন্নতির শিখরে নিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই সেই প্রযুক্তির অন্ধকার দিকটি সামনে এসে শিহরণ জাগাচ্ছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএল (ISIL) এবার প্রাণঘাতী মারণাস্ত্র ও বোমা তৈরির বিপজ্জনক নির্দেশিকা পাওয়ার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টেক জায়ান্টদের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটকে। বিশেষ করে ইলন মাস্কের সংস্থা এক্স-এর এআই মডেল ‘গ্রোক’ (Grok)-কে কাজে লাগিয়ে চরমপন্থীরা কীভাবে অত্যন্ত নিখুঁত ও দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা বানানোর কৌশল বের করছে, সম্প্রতি এক বিস্ফোরক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তা ফাঁস হতেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সাধারণত গুগল বা ওপেনএআই-এর মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের এআই চ্যাটবটে কঠিন নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ফিল্টার বসিয়ে রাখে, যাতে অস্ত্র নির্মাণ, নাশকতামূলক কার্যকলাপ বা বিষাক্ত রাসায়নিক প্রস্তুত সংক্রান্ত কোনো তথ্য সাধারণ ব্যবহারকারীরা সহজে না পান। কিন্তু সাইবার অপরাধী ও জঙ্গিরা সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিতে শুরু করেছে।
‘জেলব্রেকিং’-এর মাধ্যমে এআই-কে বিভ্রান্তির খেলা
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠনগুলো সরাসরি প্রশ্ন না করে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বিশেষ কিছু সাংকেতিক শব্দ ও নির্দেশ (Prompt) ব্যবহার করে এআই-এর নিরাপত্তা দেয়াল বাইপাস করছে। প্রযুক্তিবিদদের ভাষায় এই কৌশলকে বলা হয় ‘জেলব্রেকিং’ (Jailbreaking)।
এর মাধ্যমে কোনো রূপ বাধা ছাড়াই ঘরে বসে দেশি বা দূরনিয়ন্ত্রিত আইইডি (IED) তৈরির গাইডলাইন, ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের সঠিক মিশ্রণ এবং ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরক বানানোর নিখুঁত অনুপাত বের করে নেওয়া হচ্ছে। আর এই কাজে বিশেষ করে ইলন মাস্কের ‘গ্রোক’-এর শিথিল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকেই চরমপন্থীরা সবচেয়ে বেশি হাতিয়ার করছে বলে জানা গেছে।
ডার্ক ওয়েব পেছনে ফেলে এআই-এর নতুন হুমকি
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে জঙ্গিদের এসব নাশকতামূলক ম্যানুয়াল জোগাড় করতে ডার্ক ওয়েবের বিপজ্জনক গণ্ডিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাতে হতো কিংবা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ওপর সরাসরি নির্ভর করতে হতো। কিন্তু আধুনিক এআই তাঁদের কাজকে অবিশ্বাস্য রকম সহজ, গতিশীল ও সর্বজনীন করে দিয়েছে। এখন শুধুই চ্যাটবটে নির্দেশ পাঠিয়ে মুহূর্তে ধাপে ধাপে বোমা বানানোর ব্লু-প্রিন্ট পেয়ে যাচ্ছে তারা। এমনকি গোপন টেলিগ্রাম চ্যানেল ও চরমপন্থী ফোরামগুলোতেও এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে সংগৃহীত এসব বিপজ্জনক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে প্রবল উদ্বেগ ও টেক সংস্থাগুলোর ভূমিকা
এই রিপোর্ট সামনে আসার পর থেকে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়বদ্ধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা। গবেষকরা স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, বর্তমানে কোনো নিরাপত্তা ফিল্টারই শতভাগ অভেদ্য নয়। জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতায় বা লাভের আশায় সুরক্ষাব্যবস্থা মজবুত না করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বাজারে উন্মুক্ত করে দিলে তার চরম মূল্য চোকাতে হবে সাধারণ মানুষকে। প্রযুক্তি যদি শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর জন্য মেগা নাশকতার সোপান হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা অচিরেই গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য ভয়ংকর রূপ নেবে।