লাটাগুড়ি বা ডুয়ার্স ভ্রমণ এবার আরও সহজ! জঙ্গলমহলের নতুন আকর্ষণ এই নজরকাড়া সেতুটি কোথায় জানেন?

সোশাল মিডিয়ার রিলস থেকে শুরু করে ইউটিউব স্ট্যাটাস— উদ্বোধনের আগেই দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে জলপাইগুড়ির বিখ্যাত ‘মূর্তি সেতু’। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মঙ্গলবার নবরূপে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হতে চলেছে এই ধনুকাকৃতি আর্চ ব্রিজ। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ারের কর্মসূচি সেরে হেলিকপ্টারে টিয়াবন সংলগ্ন হেলি প্যাডে পৌঁছে এই নতুন সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষেরও।
স্থানীয় ও পর্যটকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে মূর্তি নদীর উপর তৈরি এই নতুন সেতুটি উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে এক বিরাট পরিবর্তন আনতে চলেছে। মূলত নির্বাচনী বিধিনিষেধের জেরে চার বছর ধরে এই সেতুর কাজ সম্পূর্ণ হলেও তা চালু করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে সেই জটিলতা কাটিয়ে সেতুটি চালু হওয়ায় দুই প্রান্তের মানুষের যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার কমে যাবে। এর ফলে নাগরাকাটা, লুকসান ও মহাবাড়ী এলাকার বাসিন্দারা খুব সহজেই লাটাগুড়ি বা জলপাইগুড়ি সদরে পৌঁছে যেতে পারবেন। একইভাবে ময়নাগুড়ি বা জলপাইগুড়ি থেকে যাঁরা বিন্দু, রঙ্গু বা কুমাইয়ের মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে যাবেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও সময় ও দূরত্ব অনেকটাই সাশ্রয় হবে।
পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ীরাও এই যোগাযোগের উন্নতির ফলে பெரிதும் উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। সেতুটির সৌন্দর্য বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে সাদা-কালোর নান্দনিক রঙে মূর্তির অরণ্যকে নতুনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গ রাজ্য পুলিশের আইজি সুকেশ কুমার জৈন সহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সমস্ত প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে। চার বছর পর এই সেতু চালু হওয়ায় শুধু পর্যটকরাই নন, দারুণ খুশি স্থানীয় বাসিন্দারাও।