ব্যাঙ্ক ঋণ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার ভর্তুকি— মোদী সরকারের মেগা প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যজীবীদের জন্য কী কী থাকছে?

রাজ্যের সমস্ত মৎস্যজীবীকে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য কিষাণ সমৃদ্ধি সহ-যোজনা (PM-MKSSY)-র আওতায় নিয়ে আসার ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পে রাজ্যের প্রতিটি মৎস্যজীবীকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
চলতি অর্থবর্ষে এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের জন্য ৬,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো মৎস্যচাষী ও ব্যবসায়ীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। এর আওতায় উপভোক্তারা সহজ শর্তে ব্যাঙ্ক ঋণ, সরকারি সহায়তা এবং অ্যাকোয়াকালচার বিমা-সহ একাধিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য মৎস্যচাষী ও ব্যবসায়ীদের ন্যাশনাল ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট বোর্ড বা NFDP-তে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই তাঁরা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বিভিন্ন আর্থিক সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন।
উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মাছ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ একটি। রাজ্যে বর্তমানে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সাত লক্ষ মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে আট লক্ষ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু ব্যক্তি স্তরেই নয়, মৎস্যচাষিদের সমবায় ব্যবস্থাকেও এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় মৎস্য মন্ত্রক ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে মৎস্যচাষে উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে বিশেষ ভর্তুকির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির জন্য ২৫ শতাংশ এবং তফশিলি জাতি, উপজাতি ও মহিলাদের জন্য ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সহায়তা মিলবে। এ ছাড়াও, পরিকাঠামো উন্নয়নে কোল্ড স্টোরেজ, হ্যাচারি, ফিড মিল এবং গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার মতো বিভিন্ন প্রকল্পে ‘ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ (FIDF)-এর মাধ্যমে ঋণ ও সুদের ভর্তুকির সুযোগ থাকছে। অনলাইনে আবেদন করে এই সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন রাজ্যের মৎস্যজীবীরা।