“অনন্তকালের চুক্তি, এর কোনো শেষ নেই!” ট্রাম্পের দাবির সামনে মাথা নোয়াল ডেনমার্ক, হাতছাড়া হচ্ছে গ্রিনল্যান্ড?

আর্কটিক অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ে বিশাল মোড়। দীর্ঘদিন ধরে চলা টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তাজনিত নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দিতে সম্মত হয়েছে ডেনমার্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের প্রস্তাব মেনে নিয়ে আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভার ফাঁকেই দুই দেশের মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
মূলত বরফে ঢাকা আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের যৌথ প্রশাসন।
“অনন্তকালের চুক্তি” বললেন ট্রাম্প, কী থাকছে চুক্তিতে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিশেষ পদক্ষেপকে ‘ইনফাইনাইট লাইফ এগ্রিমেন্ট’ বা “অনন্তকালের চুক্তি” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, এই চুক্তির কোনো শেষ নেই এবং এর পরপরই গ্রিনল্যান্ডে একটি বিশাল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করবে ওয়াশিংটন।
ডেনমার্কের বিদেশমন্ত্রী লার্স লুকু রামুসেন সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, “এই সমঝোতার মাধ্যমে আর্কটিক এবং উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলে বহুদিনের যে নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তা ছিল, তার স্থায়ী সমাধান হবে।”
সার্বভৌমত্ব রক্ষা বনাম মার্কিন প্রভাব: উদ্বেগে স্থানীয়রা
যদিও স্বশাসিত ড্যানিশ ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে এই চুক্তিতে দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে।
| প্রশাসনিক প্রধান | বক্তব্য / প্রতিক্রিয়া |
| মেটে ফ্রেডেরিকসেন (ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী) | “এই সিদ্ধান্ত ন্যাটো এবং সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তার জন্যই অত্যন্ত ইতিবাচক।” |
| ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ (ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট) | “এই সমঝোতা আর্কটিক অঞ্চলে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বকে আরও শক্তপোক্ত করবে।” |
| ইয়েন্স ফ্রেডরিক নিয়েলসেন (গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী) | “চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব জনগণের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবে।” |
তবে ওপরের রাজনৈতিক মহল যতই আশ্বস্ত করুক না কেন, সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। রাজধানী নুক-এর ২৯ বছর বয়সী বাসিন্দা সোরেন ক্রেৎজমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ বা অতি-উৎসাহ গ্রিনল্যান্ডের সাধারণ মানুষের জন্য কতটা স্বস্তির হবে, তা নিয়ে বড় সংশয় থেকে যাচ্ছে। অন্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রকারান্তরে গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিজস্ব প্রভাব বহুগুণ বাড়িয়ে নিল।