পাবলিসিটির চক্করে মমতার ভাবনায় ভাগ বসানোর চেষ্টা? জোড়াফুল বিতর্কে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তৃণমূল কংগ্রেসের অতি পরিচিত ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীকটি অন্তর্বর্তীকালীনভাবে ফ্রিজ করার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। এর মাঝেই প্রায় তিন দশক পুরনো প্রতীকের আসল স্বত্বাধিকার নিয়ে প্রকাশ্যে এল এক বিস্ফোরক বিতর্ক। ১৯৯৮ সালে তৈরি হওয়া জোড়াফুল নাকি কোনো রাজনৈতিক নেতার নয়, বরং এক প্রবীণ শিল্পীর তুলির টানে জন্ম নিয়েছিল— সম্প্রতি এমনটাই দাবি করেছেন চিত্রশিল্পী সোমনাথ চৌধুরী।
তবে এই দাবি সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাজ্য শাসকদল। তৃণমূলের প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, প্রতীকের প্রাথমিক খসড়া যে কেউ আঁকতে পারেন, কিন্তু এর মূল ভাবাদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন সম্পূর্ণভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই মস্তিষ্কপ্রসূত।
২৮ বছর ধরে ‘বঞ্চনা’? যা বললেন শিল্পী সোমনাথ চৌধুরী
শিল্পী সোমনাথ চৌধুরীর দাবি, ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের ঠিক প্রাক্কালে তৎকালীন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রয়াত অজিত পাঁজা তাঁর কাছে বেশ কিছু ফুলের নকশা আঁকার অনুরোধ নিয়ে এসেছিলেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী তিনি একাধিক স্কেচ বা ড্রয়িং জমা দেন। পরবর্তীতে টিভিতে নতুন রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসেবে নিজের আঁকা ‘জোড়াফুল’ দেখতে পেলেও দীর্ঘ ২৮ বছরে তাঁর কায়িক পরিশ্রমের ন্যূনতম কোনো স্বীকৃতি দল দেয়নি। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন প্রতীকটি ফ্রিজ করায় তিনি মন্তব্য করেন, এত দিন পর অন্তত সঠিক বিচার শুরু হলো।
“প্রাথমিক স্কেচ আর মূল রাজনৈতিক থিম এক নয়!” তোপ কুণালের
শিল্পীর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই জলঘোলা শুরু হয়। পালটা তোপ দেগে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ জানান, এই ধরনের দাবি স্রেফ সস্তা রাজনৈতিক প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। প্রতীকের পেছনে থাকা রাজনৈতিক দর্শনের ব্যাখ্যা দিয়ে কুণাল বলেন:
-
মাটির সংযোগ (গ্রাসরুট): প্রতীকটিতে ‘ঘাস’ দিয়ে সাধারণ মানুষের মাটির সঙ্গে যুক্ত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
-
সমতা ও সম্প্রীতি: জোড়াফুলের মূল ভাবনাজুড়ে রয়েছে নারী-পুরুষের সমতা ও সামাজিক সম্প্রীতি।
কুণাল ঘোষের স্পষ্ট বক্তব্য, অজিত পাঁজা হয়তো তৎকালীন সময়ে একাধিক চিত্রশিল্পীকে দিয়ে প্রাথমিক খসড়া বা রাফ ড্রয়িং করিয়েছিলেন। কিন্তু প্রাথমিক নকশা বানানোর অর্থ এই নয় যে কেউ সেই রাজনৈতিক প্রতীকের জনক হয়ে যাবেন।
কুণালের নিজস্ব অভিজ্ঞতা:
“দল গঠনের সময় ইস্তাহারের প্রাথমিক খসড়া তৈরির দায়িত্বে আমিও যুক্ত ছিলাম। কিন্তু আমরা যা-ই লিখি না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা নিজ হাতে পরিমার্জন করে রূপ দিতেন। প্রাথমিক খসড়া এবং চূড়ান্ত রাজনৈতিক ভাবনার মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক রয়েছে।”
কেন হঠাৎ উসকে উঠল ২৮ বছর আগের বিতর্ক?
তিন দশক ধরে অচেনা থেকে যাওয়া এক বিতর্ক হঠাৎ নির্বাচন কমিশনের ‘প্রতীক ফ্রিজ’ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পরপরই সামনে আসায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এখন দেখার, এই দাবির সপক্ষে তখনকার কোনো চিঠিপত্র, প্রাথমিক স্কেচ কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীর প্রমাণ সামনে আসে কি না, নাকি এটি নিছকই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আকচা-আকচির অঙ্গ হিসেবেই ধামাচাপা পড়ে।