রেলে বিনা টিকিটে সওয়ার তরুণী! TTE জরিমানার কথা বলতেই এমন কাণ্ড ঘটালেন, শোরগোল নেটপাড়ায়

চলন্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট পরীক্ষকের সামনে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটালেন এক তরুণী। টিকিট চাওয়া এবং জরিমানা দিতে বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে টিটিই-র (TTE) বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও শোষণের অভিযোগ তোলার জন্য নিজের পোশাক নিজেই ছিঁড়ে ফেলেন তিনি। কিন্তু টিটিই-র তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও ক্যামেরাবন্দি প্রমাণের দৌলতে সমস্ত মিথ্যা চক্রান্ত ভেস্তে যায়। নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই ঘটনার ভিডিও এখন চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল ঘটনাটি?

সাধারণ পরীক্ষার অংশ হিসেবে চলন্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট পরীক্ষা করছিলেন সংশ্লিষ্ট টিটিই। বিনা টিকিটে সওয়ার এক তরুণীকে দেখতে পেয়ে তিনি টিকিট দেখতে চান। টিকিট না থাকায় নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা ধার্য করতেই ওই তরুণী তা দিতে সরাসরি অস্বীকার করেন। শুধু তাই নয়, নিজের ভাই ভারতীয় রেলে চাকরি করেন—এই কথা বলে টিটিই-কে হুমকি দেওয়ার চেষ্টাও করেন তিনি।

টিটিই সেই হুমকিতে পাত্তা না দিয়ে সরকারি নিয়ম মেনে জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়া চালিয়ে যান। এতেই চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ওই তরুণী। নিজের পোশাক ছিঁড়ে প্রকাশ্যে হট্টগোল শুরু করে দেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে অভিযোগ তোলেন, টিটিই তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন ও হেনস্থা করেছেন। এমনকি রেলের জরুরি হেল্পলাইনে ফোন করে কর্তব্যে রত আধিকারিকের নামে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করারও ভয় দেখান।

টিটিই-র উপস্থিত বুদ্ধি ও সত্য উন্মোচন

তরুণীর মনোভাব ও আচরণের গতিপ্রকৃতি আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন ওই টিকিট পরীক্ষক। তিনি পুরো ঘটনাটি নিজের মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রাখেন। ভিডিওতে স্পষ্ট ধরা পড়ে, কীভাবে ওই তরুণী নিজ হাতে নিজের জামাকাপড় ছিঁড়ছেন এবং নাটকের মধ্য দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। এই ভিডিওটি সামনে আসতেই টিটিই-র বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ

‘Ghar Ke Kalesh’ নামের একটি এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই তা নিমেষে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে ওই তরুণী নিজের নাম রাধিকা তিওয়ারি বলে দাবি করেন। ভিডিওটি নজরে আসতেই সক্রিয় হয় রেল কর্তৃপক্ষের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট ‘রেলওয়ে সেবা’। তাঁরা বিস্তারিত পিএনআর ও ফোন নম্বর দিয়ে হেল্পলাইন ১৩৯-এ যোগাযোগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তদন্ত চালিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ওই তরুণীর আচরণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “টিটিই ভিডিও রেকর্ড না করলে একজন সৎ সরকারি কর্মচারীর চাকরি চলে যেত এবং জীবন নষ্ট হয়ে যেত।” বিনা টিকিটে ভ্রমণ এবং সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে অবিলম্বে ওই মহিলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নেটিজেনরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *