“রাস্তা যতক্ষণ ইচ্ছে বন্ধ থাকবে!” প্রতিবাদ করতেই চাবি কেড়ে বাইক থেকে নামিয়ে মার, শহর কলকাতায় শোরগোল

নাগেরবাজারে হর্ন বাজানোর ‘অপরাধ’! তরুণীকে বাইক থেকে টেনে নামিয়ে শ্মীলেতাহানি, পিস্তলের বাঁটে রক্তারক্তি

বিশ্বকর্মা পুজোর আমেজ শেষ হতে না হতেই তিলত্তমা কলকাতায় ফের নারী নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন উঠল। রাস্তা আটকে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব, আর সেই বেআইনি জ্যামে কেবল হর্ন বাজানোর ‘অপরাধে’ এক তরুণীকে বাইক থেকে টেনে নামিয়ে শ্লীলতাহানি ও বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল নাগেরবাজার এলাকায়। আততায়ীদের বাধা দিতে এলে তরুণীর দাদা ও ভাইপোকে পিস্তলের বাঁট দিয়ে নৃশংসভাবে আঘাত করার অভিযোগও সামনে এসেছে।

শুক্রবার রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। খবর পেয়ে তদন্তে নেমে পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত এখনও অধরা।

বাইকের চাবি কেড়ে তাণ্ডব, টেনে নিয়ে যাওয়া হলো সরু গলিতে

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে চরম আতঙ্কে থাকা ওই তরুণী জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা থেকে পৌনে ন’টার মধ্যে তিনি ও তাঁর বন্ধু বাইকে করে নাগেরবাজার থেকে লেকটাউনের দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। রাস্তায় কয়েকজন দুষ্কৃতী জ্যাম করে দাঁড়িয়েছিল। পথ ফাঁকা করার জন্য স্বাভাবিকভাবেই তাঁর বন্ধু বাইকের হর্ন বাজায়।

অভিযোগ, হর্ন বাজানো মাত্রই এক দুষ্কৃতী নিজেকে ‘পকাই’ বলে পরিচয় দিয়ে চরম দাদাগিরি শুরু করে। সে হুমকি দিয়ে বলে, “রাস্তা যতক্ষণ ইচ্ছা বন্ধ থাকবে!” সাধারণ সৌজন্য দেখিয়ে একটু জায়গা ছাড়ার অনুরোধ করতেই হঠাৎ বাইকের চাবি কেড়ে নেয় সে এবং তরুণীর বন্ধুকে পর পর দুটো সজোর চড় মারে।

তরুণী বাইক থেকে নেমে প্রতিবাদ করলে চার দুষ্কৃতী মিলে তাঁকে জোর করে একটি সরু গলির দিকে টেনে নিয়ে যায়। সেখানে চরম ধস্তাধস্তির মধ্যে তরুণীর গলার সোনার চেন ছিঁড়ে নেওয়া হয় এবং তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ।

পিস্তলের বাঁট দিয়ে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি

তরুণীর চিৎকারে তাঁর দাদা ও ভাইপো বাড়ি থেকে ছুটে বেরিয়ে আসেন। অভিযোগ, তখন দুষ্কৃতীরা চরম আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং সঙ্গে থাকা পিস্তলের বাঁট দিয়ে তাঁদের মাথায় ও মুখে সজোরে আঘাত করে। ঘটনায় তরুণীর বন্ধুর চোখ ও ঠোঁটে গুরুতর আঘাত লেগেছে।

তরুণী আক্ষেপের সুরে জানান, তিনি নিজের মোবাইলে দুষ্কৃতীদের এই তাণ্ডব ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন। কিন্তু দুষ্কৃতীরা পিস্তল উঁচিয়ে সোজা প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ায় চরম আতঙ্কে তিনি সেই ভিডিও ডিলিট করে দিতে বাধ্য হন।

পুলিশি তৎপরতা ও অধরা মূল অভিযুক্ত

উৎসবের মরশুমে এমন নৃশংস আক্রমণের মুখোমুখি হয়ে ভেঙে পড়েছে আক্রান্ত পরিবার। ঘটনার পরই নাগেরবাজার থানায় ৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যেই এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তবে মূল অভিযুক্ত ‘পকাই’ ও বাকি সঙ্গীদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এলাকা জুড়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *