দামি কোচিং নয়, শুধু আত্মবিশ্বাস! ফুটপাথের ব্যাগ বিক্রেতার ছেলের কেরামতিতে স্তম্ভিত দেশ

জীবনে সাফল্য পেতে কিংবা কঠিন পরীক্ষায় জয়ী হতে বিশাল অঙ্কের টাকা বা নামীদামী কোচিং সেন্টারের বড় বড় ডিগ্রিই শেষ কথা নয়—প্রয়োজন কেবল অদম্য জেদ, অধ্যবসায় আর সঠিক আত্মবিশ্বাস। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের তরুণ ওম চৌকসের অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প যেন সেই সত্যকেই নতুন করে আরও একবার প্রমাণ করে দিল।

বাবা ফুটপাথে ব্যাগ বিক্রি করে সংসার চালান। আর্থিক সীমাবদ্ধতা এতটাই ছিল যে কোনো বড় কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়ার কথা ভাবাও ছিল বিলাসিতা। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতি ওমের স্বপ্নের পথ রুদ্ধ করতে পারেনি। কোনো রকম দামি কোচিং ছাড়াই নিজস্ব স্ট্র্যাটেজিতে প্রথম চেষ্টাতেই দেশের সবচেয়ে কঠিন তিনটি প্রবেশিকা পরীক্ষা—NEET, JEE Main এবং CUET—একসঙ্গে ক্র্যাক করে চমকে দিয়েছেন ওম।

ফুটপাথে বাবার ব্যাগ বিক্রি, ছেলের চোখে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন

ওমের শিক্ষার সফর আর দশটা সাধারণ কিংবা বিত্তশালী পরিবারের ছেলেমেয়েদের থেকে ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। বড় শহরে গিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে নামী প্রতিষ্ঠানে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তাঁর ছিল না। কিন্তু নিজের ওপর আস্থা হারাননি তিনি। দামি গাইডের বদলে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন পাঠ্যবই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বুঝতে এবং নিয়মিত রিভিশনে।

নিজের তৈরি করা এই সুনির্দিষ্ট স্ট্র্যাটেজিই তাঁকে এনে দিয়েছে ঐতিহাসিক সাফল্য। শুধু একটি নয়, দেশের ৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসে প্রথমবারেই বাজিমাত করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁর এই চোখধাঁধানো নম্বর তাঁকে রাজ্যের মেধা তালিকাতেও শীর্ষ সারিতে এনে দাঁড় করিয়েছে।

‘শর্টকাট’ নয়, সাফল্যের মূল চাবিকাঠি নিয়মিত রিভিশন

নিজের এই অনন্য জয় নিয়ে ওম জানান, সাফল্য পাওয়ার পেছনে কোনো অলৌকিক শর্টকাট ছিল না। তাঁর মূল হাতিয়ার ছিল নিয়মিত পড়াশোনা করা, বিষয় না বুঝে মুখস্থ করার প্রবণতা ত্যাগ করা এবং প্রতিদিন পড়া রিভিশন দেওয়া।

এই কঠিন লড়াইয়ে ওমের পাশে বটবৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর বাবা। ফুটপাথে ব্যাগ বিক্রি করে কোনোক্রমে সংসার চালানো বাবা আর্থিক অনটনের মধ্যেও ছেলের পড়ার স্বপ্নের ওপর থেকে বিশ্বাস হারাননি। আর বাবার সেই বিশ্বাস ও আত্মত্যাগই ওমকে প্রতি মুহূর্তে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার রসদ জুগিয়েছে।

নতুন লক্ষ্য: চিকিৎসকের পোশাকে মানবসেবা

তিন-তিনটি সর্বভারতীয় স্তরের পরীক্ষায় পাস করার পরও ওমের লড়াই থামেনি। তাঁর জীবনের প্রধান ও চূড়ান্ত স্বপ্ন—একজন চিকিৎসক হওয়া। দরিদ্র ও সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ওম এবার ডাক্তারি পড়ে সাদা এপ্রন পরে মানুষের সেবা করার জন্য নিজের নতুন যাত্রা শুরু করতে প্রস্তুত।

জবলপুরের ওম চৌকসের এই অসাধারণ গল্প কেবল একটি সফলতার কাহিনি নয়; এটি প্রমাণ করে যে স্বপ্ন যদি সত্যি হয় এবং লক্ষ্য যদি স্থির থাকে, তবে দারিদ্র্য বা সুযোগের অভাব কখনো কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে বড় স্বপ্ন দেখা লক্ষ লক্ষ ভারতীয় পড়ুয়ার কাছে ওম আজ এক বিরাট অনুপ্রেরণার নাম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *