মাটির মাত্র ৫ কিমি গভীরে উৎসের সন্ধান! ভূটানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাবে কাঁপল অসমও

শনিবার বিকেলে হঠাৎই আতঙ্কের ছায়া নেমে এল ভারতের প্রতিবেশী দেশ ভূটানে। বিকেল চারটে নাগাদ এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের জোরালো ধাক্কায় কেঁপে ওঠে ভূটানের বিস্তীর্ণ এলাকা। ভূকম্পনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি রাজ্যেও এর সরাসরি প্রভাব অনুভূত হয়েছে। আকস্মিক এই কম্পনে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
মাটির মাত্র ৫ কিলোমিটার গভীরে কম্পনের কেন্দ্রস্থল
‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি’ (NCS)-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ঠিক ৪টে ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ড নাগাদ (IST) এই ভূমিকম্প ঘটে। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা নথিভুক্ত করা হয়েছে ৪.৭ (কোনো কোনো সূত্রে ৪.৯)।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল বা এপিসেন্টার ছিল ভূটানের মঙ্গো এলাকা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে এবং গিয়েলপোঝিং (Gyelpozhing) থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, ভূগর্ভের মাত্র ৫ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎপত্তি হয়েছিল। স্থানটির ভৌগোলিক অবস্থান ছিল ২৭.১৬৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১.২৪০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
কাঁপুনি অনুভূত হলো ভারতের অসমেও
যেহেতু এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ভারতের সীমানার অত্যন্ত কাছে ছিল, তাই সীমান্ত এলাকা ছাড়াও ভারতের উত্তর-পূর্ব ভারতের বহু জায়গায় কম্পন ছড়ায়। বিশেষ করে অসমের গুয়াহাটি—যা ভূকম্পনের কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র ১২৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত—সেখানেও বিকেলবেলা স্পষ্ট ঝটকা অনুভূত হয়েছে। অসমের একাধিক জেলার বাসিন্দারা কম্পন টের পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ক্ষয়ক্ষতি ও আফটারশকের আতঙ্ক
ভূমিকম্পটি মূলত মাঝারি মাত্রার হলেও এর কেন্দ্রস্থল মাটির অগভীরে থাকায় কম্পনের রেশ বেশ তীব্র ছিল। তবে স্বস্তির বিষয়, এই ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ভূটান বা ভারতের সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলগুলি থেকে কোনো বড়সড় প্রাণহানি বা গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
তবে ভূকম্পন বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রধান কম্পনের পর সাধারণত ছোট ছোট একাধিক অনুকম্পন বা আফটারশক হতে পারে। সেই কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন উদ্ধারকারী ও দুর্যোগ মোকাবিলা দলের প্রতিনিধিরা।