অবৈধ অনুপ্রবেশ নাকি নারী পাচারের বড় ফাঁদ? কেরলের স্পা সেন্টারে পুলিশের বিরাট অভিযানে ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য

বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসার কোনো বালাই নেই। দিব্যি সীমান্ত টপকে ভারতে ঢুকে পশ্চিমবঙ্গের হাত ধরে ভুয়ো পরিচয়পত্র ও মোবাইল সিম কার্ড বানিয়ে কেরলে আস্তানা গেড়েছিলেন পাঁচ বাংলাদেশি মহিলা। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কেরলের কান্নুর শহরের একটি স্পা এবং ম্যাসাজ সেন্টারে অভিযান চালিয়ে সেই পাঁচ মহিলাকে গ্রেপ্তার করল কান্নুর টাউন থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনার নেপথ্যে শুধু অবৈধ অনুপ্রবেশ নয়, একটি বড়সড় নারী পাচারের চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম সেলিনা আক্তার, নাসমা আক্তার, কে তাসলিমা, কে মইনা এবং নাসরিন বিবি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর কান্নুর রেল স্টেশনের কাছের একটি স্পা থেকে প্রথমে ফরিদপুরের বাসিন্দা ২৯ বছরের সেলিনা আক্তারকে পাকড়াও করা হয়। তাঁকে জেরা করেই বাকি চার জনের হদিশ মেলে। ধৃতরা প্রত্যেকেই কান্নুরের একটি কোয়ার্টারে থেকে শহরের ওই স্পা সেন্টারে কাজ করতেন। আদালতের নির্দেশমতো তাঁদের পুলিশি হেফাজতের পর বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কীভাবে চলত এই চক্র? পুলিশের দীর্ঘ জেরা ও তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানোর পর এই মহিলাদের প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হতো। সেখানে তাঁদের আসল ছবি ব্যবহার করেই তৈরি করা হতো ভুয়ো পরিচয়পত্র ও মোবাইল সিম কার্ড। এরপর সেই ভুয়ো নথির জোরেই কেরলের মতো ভিন রাজ্যে তাঁদের চাকরি এবং থাকার ব্যবস্থা করা হতো। তদন্তকারীদের দাবি, এই পুরো পাচার ও জালিয়াতির নেপথ্যে মুম্বই কেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী দালাল ও এজেন্ট চক্র সক্রিয় রয়েছে। স্পা ও ম্যাসাজ সেন্টারগুলিতে মূলত ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সি মহিলাদের এনে আটকে রেখে কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে। আগামী দিনে কেরলের অন্যান্য অঞ্চলেও এই ধরনের স্পা ও ম্যাসাজ সেন্টারগুলিতে তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করবে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *