“আমরা নিজে রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম কিনছি, এটা পাগলামি!” বিস্ফোরক মন্তব্য ট্রাম্পের প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে কড়া শুল্কের সওয়াল প্রাক্তন মার্কিন কর্তার, তবে ভারতের বেলায় কেন নরম সুর ম্যাকমাস্টারের?

বৈশ্বিক বাণিজ্যের বাজারে রাশিয়া থেকে তেল এবং ইউরেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ আমদানির ওপর ভারী শুল্ক বসানোর প্রস্তাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন চর্চা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক বড়সড় মন্তব্য করে বসল ওয়াশিংটনের অন্দরমহল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইচ. আর. ম্যাকমাস্টার (Lt Gen H.R. McMaster) সাফ জানিয়েছেন, রাশিয়ার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ যারা কিনছে, তাদের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক শুল্ক বা ট্যারিফ চাপানো অত্যন্ত জরুরি। তবে একই সঙ্গে তিনি ভারতের মতো বন্ধু দেশের ভূরাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সহানুভূতিশীল হওয়ারও বার্তা দিয়েছেন।

মার্কিন নীতিতে চরম দ্বন্দ্বে ক্ষোভ

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে রাশিয়া ও ইরান সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার যে বিল পাস হয়েছে, তার তীব্র সমর্থন করে ম্যাকমাস্টার মন্তব্য করেছেন যে মস্কোর বিরুদ্ধে বাণিজ্য ক্ষেত্রে কঠোর “শুল্কের অস্ত্র” প্রয়োগ করা উচিত। কিন্তু নিজের দেশের দ্বিমুখী নীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলতে ছাড়েননি তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যখন রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে, তখন তাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, শত্রুভাবাপন্ন দেশের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা বজায় রাখা এক ধরণের “পাগলামি” ছাড়া আর কিছু নয়।

ভারতের অবস্থান নিয়ে বিশেষ বার্তা

রাশিয়া থেকে তেল ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রাক্তন এই মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা স্পষ্ট জানান যে, ভারতের বর্তমান নিরাপত্তা পরিকাঠামো এবং দুই প্রতিবেশী দেশের বৈরী মনোভাবের কথা মাথায় রাখা উচিত। পাকিস্তান ও চিনের মধ্যবর্তী জটিল সমীকরণে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে ওয়াশিংটনের উচিত নয়াদিল্লির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে গোটা বিষয়টি অনুধাবন করা। চিনকে মোকাবিলার প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত ভারত ও আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কই সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে বলে মত প্রকাশ করেছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *