জলের অপচয় রোধ থেকে ডিজিটাল নজরদারি! আমূল বদলে গেল ‘জল জীবন মিশন’, বাজেট জানলে চোখ কপালে উঠবে

গ্রামীণ ভারতের প্রতিটি পরিবারে নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্র সরকারের উচ্চাভিলাষী প্রকল্প ‘জল জীবন মিশন’ (JJM) আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। ২০১৯ সালের অগস্টে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য ২০২৪ সালের মধ্যে গ্রামীণ বাড়িতে কলের জল পৌঁছে দেওয়ার থাকলেও, চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রকল্পটিকে নতুন রূপ দিয়ে চালু করা হয়েছে ‘জল জীবন মিশন ২.০’ (Jal Jeevan Mission 2.0)। নতুন এই রূপরেখা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি কোণায় পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প শুরুর সময় অর্থাৎ ২০১৯ সালে দেশে মাত্র ১৬.৭২ শতাংশ অর্থাৎ ৩ কোটি ২৩ লক্ষ গ্রামীণ পরিবারে কলের জলের সংযোগ ছিল। ২০২৬ সালের অগস্টে সেই সাফল্যের হার নাটকীয়ভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২.২৪ শতাংশে। অর্থাৎ বর্তমানে দেশের ১৫ কোটি ৯১ লক্ষেরও বেশি গ্রামীণ পরিবারে কার্যকর কলের জলের সংযোগ পৌঁছে গেছে। এই পরিসর আরও ব্যাপক করতেই ‘জল জীবন মিশন ২.০’-র জন্য মোট ৮ লক্ষ ৬৯ হাজার কোটি টাকার বিশাল আর্থিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় সহায়তার পরিমাণই ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার কোটি টাকা।
নতুন এই সংস্করণে কেবল পরিকাঠামো তৈরিই নয়, বরং জল সংরক্ষণ, বৃষ্টির জল ধরানো এবং ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণের মতো বিষয়গুলিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ‘সুজলম ভারত’ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামের জন্য আলাদা ‘সুজল গাঁও আইডি’ তৈরি করে উৎস থেকে কল পর্যন্ত জল সরবরাহের সঠিক উপায়ে নজরদারি চালানো হবে। খরা-প্রবণ অঞ্চল, মরুভূমি এবং আর্সেনিক বা ফ্লোরাইড দূষিত এলাকাগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিদিন মাথাপিছু ৫৫ লিটার জল সরবরাহ নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।