মণিপুরে ফের রক্তক্ষয়! চাষের জমিতে কাজ করার সময় দুই আদিবাসী মহিলাকে নৃশংসভাবে গুলি করে খুন

ফের চরম অশান্ত হয়ে উঠল মণিপুর (Manipur)। জিরিবাম ও তামেংলং জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা হিংসার ঘটনায় দু’জন আদিবাসী মহিলাকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠল। মঙ্গলবার দুপুরে জিরিবাম জেলার লেইসাং কুকি গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। শুধু খুনই নয়, ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি ফার্মহাউসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে খবর। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল মঙ্গলবার?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর তিনটে নাগাদ ওই দুই মহিলা প্রতিদিনের মতো নিজেদের ক্ষেতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময়ই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে নিহত দুই মহিলার পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন ৬০ বছরের চঙ্গা সিতলৌ এবং ৩০ বছরের কিম্বোই সিঙ্গসন। দুজনেই লেইসাং গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চঙ্গা সিতলৌ নিজের ক্ষেতে কাঠ কুড়ানোর সময় দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ হারান। অন্যদিকে, কিম্বোই সিঙ্গসন সম্প্রতি নার্সিং পড়া শেষ করে বাড়িতে ফিরেছিলেন এবং বাবা-মাকে চাষবাসের কাজে সাহায্য করছিলেন। এই হামলায় তাঁকেও প্রাণ হারাতে হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় যাঁরা অন্যান্য জমিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখান থেকে সঠিক খবর আসতে কিছুটা সময় লাগছে।
পরপর সংঘর্ষ ও লাগাতার খুন
মণিপুরের এই উপদ্রুত অঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরেই নতুন করে অশান্তি শুরু হয়েছে। এর মাত্র দু’দিন আগেই, অর্থাৎ গত ১৩ সেপ্টেম্বর তামেংলং জেলার টোলেন গ্রাম এবং নোনে জেলার লংপি গ্রামে পৃথক হামলায় এক দম্পতি সহ চারজন উপজাতি নাগরিকের মৃত্যু হয়। সেই হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই লেইসাং গ্রামের এই নতুন হামলা সমগ্র এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি করেছে। পরপর এই হামলার জেরে কুকি-জো (Kuki-Zo) সম্প্রদায়ের নাগরিক সংগঠনগুলি আরও সোচ্চার হতে শুরু করেছে। অবিলম্বে পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি উঠছে।