টেলর সুইফ্ট-মাইকেল জ্যাকসনও অতীত! লন্ডনের বুকে দাঁড়িয়ে এমন কোন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ?

এর আগে ২০২৪ সালের ‘দিল-লুমানাটি’ ট্যুরে ভারতজুড়ে বিপুল সাফল্যের দেখা মিলেছিল। একা হাতেই প্রায় ৯৪৩ কোটি টাকার ব্যবসা এনে দিয়ে দেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অর্থনীতিকে যেমন তিনি চাঙ্গা করেছিলেন, তেমনই তৈরি করেছিলেন লাখ লাখ কর্মসংস্থান। আর এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সুদূর বিদেশের মাটিতে বিশ্ব সংগীতের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচনা করলেন ‘পাঞ্জাব দি পুত্তর’ দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ। লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে একক কনসার্টে রেকর্ডসংখ্যক শ্রোতা টেনে টেলর সুইফ্ট ও এড শিরানের মতো আন্তর্জাতিক মেগাস্টারদেরও অনায়াসে পেছনে ফেলে দিয়েছেন তিনি।
ওয়েম্বলিতে ৯২ হাজার দর্শকের ঐতিহাসিক জোয়ার
গত ১২ সেপ্টেম্বর লন্ডনের আইকনিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে আয়োজিত হয়েছিল দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের একক মিউজিক কনসার্ট। আন্তর্জাতিক সমীক্ষা ও তথ্য অনুযায়ী, এই মেগা শো-তে প্রায় ৯২ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। ওয়েম্বলির মতো ঐতিহাসিক ভেন্যুতে এর আগে কোনও একক কনসার্টে মাত্র একদিনে এত বড় জনতার উপস্থিতি দেখা যায়নি। প্রথম ভারতীয় শিল্পী হিসেবে এই ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে একক শো করে রেকর্ড ৯২ হাজার মানুষের ভিড় জমিয়ে এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস সৃষ্টি করলেন তিনি। যদিও এই ভেন্যুতে ব্রিটিশ গায়িকা অ্যাডেলের সার্বিক উপস্থিতি বা রেকর্ডের মাপকাঠি এখনও পুরোপুরি অটুট রয়েছে।
কাদের পিছনে ফেললেন দিলজিৎ?
শ্রোতাসংখ্যার নিরিখে দিলজিৎ যে সমস্ত হেভিওয়েট শিল্পীদের টেক্কা দিয়েছেন, তার পরিসংখ্যান বেশ চমকপ্রদ:
-
টেলর সুইফ্ট: ২০২৪ সালে তাঁর বিশ্বখ্যাত ‘দ্য এরাস ট্যুর’-এর আওতায় ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে আয়োজিত তিনটি শো-এর প্রতিটিতে গড়ে ৮৯ হাজার করে দর্শক হয়েছিল।
-
এড শিরান: ২০১৮ সালের ‘ডিভাইড ট্যুর’ এবং ২০২২ সালের ‘ম্যাথমেটিক্স ট্যুর’-এ ওয়েম্বলিতে পারফর্ম করার সময় তাঁর শো-তে দর্শকসংখ্যা ছিল ৮০ থেকে ৮৪ হাজারের কাছাকাছি।
-
মাইকেল জ্যাকসন: পপ সম্রাট ওয়েম্বলিতে সাতটি শো মিলিয়ে মোট ৫ লক্ষ ৪ হাজার মানুষের সমাগম ঘটিয়েছিলেন, যেখানে প্রতি শো-তে সংগৃহীত দর্শকসংখ্যা ছিল প্রায় ৭০ হাজার।
একক শতেই ৯২ হাজার দর্শক টানার এই অনন্য দৃষ্টান্ত গড়ার পাশাপাশি, কনসার্টে উপস্থিত ভক্তদের জন্য নিখরচায় পাগড়ি বাঁধার বিশেষ ব্যবস্থাও রেখেছিলেন এই জনপ্রিয় তারকা। এই অভাবনীয় সাফল্যের সুবাদে আন্তর্জাতিক স্তরে পাঞ্জাবী গান এবং নিজস্ব জনপ্রিয়তার পারদ যে এক্কেবারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।