২০০০ টাকার বেশি UPI লেনদেনে বড় চার্জের ঘোষণা! জানুন কার কত টাকা কাটবে?

ডিজিটাল লেনদেনের জনপ্রিয় মাধ্যম ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা UPI ব্যবহারকারীদের জন্য বড়সড় আপডেট সামনে এল। এতদিন ছোট থেকে বড় সব ধরনের ইউপিআই লেনদেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা গেলেও, এবার বড় অঙ্কের পেমেন্টের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাশুল বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) বসানোর পথে হাঁটল কেন্দ্র। মঙ্গলবার ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দুই হাজার টাকার কম অঙ্কের লেনদেনে আগের মতোই কোনো চার্জ বা এমডিআর দিতে হবে না। তবে দুই হাজার টাকার বেশি মূল্যের বাণিজ্যিক বা মার্চেন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ হারে বাড়তি মাশুল প্রযোজ্য হবে।
কোন ক্ষেত্রে কী নিয়ম কার্যকর হচ্ছে?
কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা পরিষ্কার জানিয়েছে, একজন সাধারণ ব্যক্তি যখন অন্য কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি টাকা পাঠাবেন (P2P), তখন যেকোনো অঙ্কের ক্ষেত্রেই আগের মতো কোনো অতিরিক্ত চার্জ লাগবে না। তবে কোনো দোকানদার, মার্চেন্ট বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
-
চার্জের হার ও সর্বোচ্চ সীমা: ২ হাজার টাকার বেশি লেনদেনে ০.৪ শতাংশ মাশুল ধার্য করা হলেও এর একটি সর্বোচ্চ সীমা বা ক্যাপ রাখা হয়েছে, যা হলো ৩০০ টাকা। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি ১০ হাজার টাকার কেনাকাটা করে ইউপিআই মারফত পেমেন্ট করেন, তবে দোকানদারকে বাড়তি ৪০ টাকা দিতে হবে। তবে কেনাকাটার অঙ্ক ১ লক্ষ টাকা হলে ০.৪ শতাংশ হিসেবে ৪০০ টাকা মাশুল হওয়ার কথা থাকলেও সর্বোচ্চ সীমা অনুযায়ী ৩০০ টাকাই দিতে হবে।
-
ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ছাড়: ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের সুরক্ষা দিতে বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে। যে সমস্ত ছোট দোকানদারদের মাসিক ইউপিআই লেনদেনের মোট পরিমাণ ১ লক্ষ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাঁদের কোনো বাড়তি অর্থ বা চার্জ দিতে হবে না।
জরুরি ও ইউটিলিটি পরিষেবায় নির্দিষ্ট চার্জ
কিছু নির্দিষ্ট জরুরি পরিষেবা এবং ইউটিলিটি বিল মেটানোর ক্ষেত্রে শতাংশের হিসেবে নয়, বরং প্রতি লেনদেনে নির্দিষ্ট ৫ টাকা করে এমডিআর বসানো হয়েছে। রেল, টেলিকম, বিমা, জ্বালানি এবং কৃষি ক্ষেত্রের পেমেন্ট এই নিয়মের আওতায় থাকবে।
এনপিসিআই-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পেট্রল পাম্প বা ইউটিলিটি বিলের মতো ক্ষেত্রগুলিতে ব্যবসার মার্জিন বা লাভের হার অত্যন্ত কম থাকে। সেই কারণে এই সমস্ত খাতের ওপর বেশি শতাংশ হারে চার্জ বসালে খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেত। তাই সেখানে শতকরা হারের পরিবর্তে মাত্র ৫ টাকা করে নির্দিষ্ট মাশুল ধার্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ডিজিটাল লেনদেনের অভ্যাসে এই নতুন নীতি কেমন প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।