“টয়লেটের বাহানায় পলায়ন!”-হিট অ্যান্ড রান কাণ্ডে ধৃতর পালানোর ছক ভেস্তে দিল পুলিশ

গুরুগ্রামের গল্ফ কোর্স রোডে মহিলা বাইক আরোহী সিয়াকে গাড়ি দিয়ে সজোরে ধাক্কা মারার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কল্যাণ বৈঁসলাকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাজস্থানের দৌসা ও রাজগড়ের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি বিশেষ দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারের পর পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালানোর চেষ্টা করায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

টয়লেটের বাহানায় চম্পটের চেষ্টা

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর প্রস্রাব করার অনুমতি চেয়েছিল অভিযুক্ত কল্যাণ। সেই সুযোগেই পুলিশকর্মীদের নজর এড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। যদিও তার সেই ছক সঙ্গে সঙ্গেই ধরে ফেলে পুলিশ। ধাওয়া করে ধরার সময় পালাতে গিয়ে মাটিতে পড়ে সামান্য চোট পায় কল্যাণ। এরপর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করায়। এই ঘটনায় কল্যাণের তুতো ভাই লভনিশ বৈঁসলাকেও আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার দিন সাদা সেডান গাড়িটিতে কল্যাণের সঙ্গেই ছিল লভনিশ। অভিযোগ, সিয়ার বাইকের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ওই যুবতীকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য ও কুরুচিকর অঙ্গভঙ্গি করেছিল সে।

ইচ্ছাকৃত ধাক্কার অভিযোগ ও নতুন ধারা সংযোজন

ঘটনার দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় একটি গাড়ি সিয়ার বাইকের পেছনে সজোরে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাচ্ছে। ধাক্কায় সিয়া রাস্তায় ছিটকে পড়েন। আহত ওই তরুণীর দাবি, অ্যাকশন ক্যামেরা ও অন্যান্য ফুটেজ প্রমাণ করে যে গাড়িটি তাঁকে ধাওয়া করছিল এবং এই ধাক্কা নিছক দুর্ঘটনা ছিল না, বরং তা ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত।

যদিও কল্যাণ বৈঁসলা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বাইকে ধাক্কা মারেননি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তীব্রতা ও ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই এই মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৯ নম্বর ধারা, অর্থাৎ খুনের চেষ্টার ধারা যোগ করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত সত্য কী, তা জানতে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারী দল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *