‘মাসে ১০০০ টাকা করে পান?’ প্রদীপ বিক্রেতা মীরার সামনে সোজা হাত পাতলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেব সাই!

রায়পুরের ব্যস্ত তেলাবান্ধা মীন ড্রাইভ এলাকা। আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতোই ফুটপাথে মাটির প্রদীপ সাজিয়ে খদ্দেরের আশায় বসেছিলেন মীরা নামের এক প্রান্তিক নারী। কিন্তু মঙ্গলবার দিনটি যে তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে উঠবে, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। হঠাৎই কনভয় থামিয়ে তাঁর ছোট দোকানে চলে আসেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেব সাই। কোনো প্রটোকল না মেনে সাধারণ মানুষের মতো রাস্তায় বসে প্রদীপ কিনলেন এবং মীরার লড়াই ও আত্মসম্মানকে স্যালুট জানালেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ভিআইপি সুলভ আচরণ এড়িয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চলে আসার দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে যান উপস্থিত পথচারীরাও।

একটি প্রদীপের বদলে ১,০০০ টাকার উপহার

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অধীনে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচির জন্য মীরার কাছ থেকে একটি মাটির প্রদীপ কেনেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রদীপের দাম মেটাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ওই মহিলার হাতে নগদ এক হাজার টাকার নোট তুলে দেন।

এক প্রান্তিক কুটির শিল্পী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আত্মমর্যাদা এবং কঠিন পরিশ্রমকে সম্মান জানাতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই বিশেষ আর্থিক সহায়তা। মুখ্যমন্ত্রীকে এত কাছ থেকে পেয়ে এবং তাঁর সৌজন্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মীরা।

ফুটপাথে বসেই সরকারি প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ

শুধু প্রদীপ কেনাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আপ্যায়নের সাথে মীরার পারিবারিক অবস্থা এবং রোজগারের খোঁজখবর নেন। মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান তিনি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোর সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন কিনা।

জবাবে মীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনার অধীনে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকারের ‘মহাতারি বন্দন যোজনা’-র মাধ্যমে প্রতি মাসে তিনি নিয়মিত ১,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। সাধারণ মহিলার মুখে সরকারি সহায়তার সঠিক প্রয়োগের কথা শুনে বেজায় খুশি হন মুখ্যমন্ত্রী।

‘ভোকাল ফর লোকাল’ ও স্বনির্ভরতার বার্তা

সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এই ঘটনার একটি সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “রাস্তার ধারের ছোট বিক্রেতা, মৃৎশিল্পী কিংবা আমাদের মায়েদের হাতের কাজের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে স্বনির্ভর ভারতের আসল শক্তি। স্থানীয় পণ্য কেনা মানে শুধু কেনাকাটা নয়, এর পেছনে জড়িত থাকে একটি পরিবারের ঘাম আর স্বপ্ন।”

তিনি আরও জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে শুরু করে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। এই এক মাস ধরে পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ রক্ষা এবং দুস্থদের সহায়তায় সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। রায়পুরের ফুটপাথ থেকে কেনা সামান্য একটি মাটির প্রদীপই এখন ছত্তিশগড়ে জনসেবা ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *