৬ বছর বয়সে কোডিং, ৭-এ মেনসার সদস্য! বিশ্বের কনিষ্ঠতম প্রোগ্রামারকে চেনেন?

যে বয়সে অধিকাংশ শিশুর কাছে কম্পিউটার মানেই গেম, কার্টুন কিংবা পড়াশোনার কোনো সাধারণ ডিভাইস, সেই বয়সেই কোড লিখে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেছে মেলবোর্নের নোয়া উইলিয়ামস। মাত্র ৯ বছর বয়সি এই বিস্ময় বালকের মেধা ও প্রতিভা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
গণিতের সমাধান থেকেই কোডিংয়ের হাতেখড়ি
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের বাসিন্দা নোয়ার কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল অত্যন্ত অল্প বয়সে। মাত্র ছয় বছর বয়সে সে অত্যন্ত জটিল প্রোগ্রামিং ভাষা C++ শেখা শুরু করে। সাধারণত সফটওয়্যার, গেম ও প্রযুক্তিগত কাজে এই ভাষা ব্যবহৃত হয়। তবে নোয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি কেবল ভাষা শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং অন্য শিশুরা যখন সাধারণ অংক কষছে, নোয়া তখন সেই গাণিতিক হিসাব-নিকাশ কম্পিউটারকে দিয়ে করানোর উপায় খুঁজত।
মেনসার সদস্য ও গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস
নোয়ার অসাধারণ প্রতিভার প্রমাণ মেলে তার আইকিউ পরীক্ষায়। মাত্র সাত বছর বয়সে তাঁর আইকিউ ৯৯.৯তম পার্সেন্টাইলে পৌঁছায়। এরপরই সে উচ্চ আইকিউ-সম্পন্ন মানুষের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘মেনসা’-র সদস্যপদ অর্জন করে।
২০২৫ সালের ৮ আগস্ট, যখন তার বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর ৩০৭ দিন, তখন একটি স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে তার তৈরি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম প্রকাশিত হয়। এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাকে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে ভূষিত করে। এমনকি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ২০২৭ সালের ইয়ং অ্যাচিভার্স (Young Achievers) সংস্করণেও জায়গা করে নিয়েছে তার এই কীর্তি।
কোডিং পেরিয়ে এবার রোবোটিক্সে নজর
শুধু কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়েই থেমে নেই নোয়া। কোডিংয়ের পাশাপাশি বর্তমানে রোবোটিক্স এবং ড্রোন প্রযুক্তির মতো জটিল বিষয় নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে সে। ছোট বয়সের এই কৌতূহল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রমাণ করে যে সঠিক সুযোগ পেলে শিশুদের মেধার পরিসর কতটা দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।