বিপ্লবীর শহরেই চরম অপমান! স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মূর্তিগুলোর এই বেহাল দশা দেখলে রক্ত টগবগ করে ফুটবে

‘বল বীর, বল উন্নত মম শির’—ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তৎকালীন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণক্ষরে লেখা। ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা থেকে শুরু করে অজস্র দেশপ্রেমিকের রক্তে রাঙা এই বিপ্লবী শহর। অথচ সেই মেদিনীপুরেই আজ চরম অবহেলা ও অনাদরে পড়ে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মূর্তিগুলি। বিশেষ দিনগুলি ছাড়া এই মূর্তিগুলির দিকে কেউ ফিরেও তাকায় না বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মূর্তির বেহাল দশা ও ক্ষোভ

মেদিনীপুরের আনাচে-কানাচে বিপ্লবীদের স্মরণে বহু মূর্তি ও স্মৃতিচিহ্ন স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান ছবিটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। কোথাও মূর্তির ছাল-চামড়া উঠে গিয়েছে, কোথাও আবার নাক-কান কাক-পক্ষীর মলমূত্রে বিদ্ধ। পচা-নোংরা ফুলের মালায় জড়িয়ে রয়েছে বীর সেনানীদের মূর্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা ভগৎ সিংয়ের মতো মহান ব্যক্তিত্বদের মূর্তিগুলির এমন ক্ষতবিক্ষত ও দৃষ্টিকটু অবস্থা দেখে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আমজনতা।

স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি, জন্ম বা মৃত্যুর দিন ছাড়া বাকি সারা বছর মূর্তিগুলি আবর্জনার মধ্যেই পড়ে থাকে। নতুন সরকার বিপ্লবীদের নিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করলেও মূর্তির এই বেহাল দশা পরিবর্তনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

প্রশাসন ও বিশিষ্ট মহলের প্রতিক্রিয়া

এই বিষয়ে মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খাঁ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ও ভেঙে যাওয়া মূর্তিগুলি সারিয়ে নতুন করে বসানোর কাজ চলছে। তবে তিনি এও স্পষ্ট করে বলেন যে শুধু প্রশাসন একা নয়, সাধারণ মানুষকেও এই বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যদিকে, মেদিনীপুর কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহ-অধ্যাপক অপর্ণিতা ভট্টাচার্য মনে করেন, প্রশাসনের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের এনএসএস (NSS) ইউনিট বা স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে এই পবিত্র স্থানগুলি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব। বিপ্লবী বীরদের উপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে এবার দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন শহরবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *