বর্ষা মানেই ডেঙ্গুর চোখরাঙানি! সামান্য জমে থাকা পরিষ্কার জলেই কীভাবে বড় বিপদ ডেকে আনছেন?

বর্ষা এলেই দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ হু হু করে বাড়তে শুরু করে। এর মূল কারণ হিসেবে আবহাওয়ার একটি বিশেষ সমীকরণকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। বৃষ্টি, বাতাসে বাড়তি জলীয় বাষ্প এবং ভ্যাপসা গরম আবহাওয়া—এই তিনটি বিষয় মিলে এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য একেবারে আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে দেয়।

বিশেষ করে চেন্নাই, কলকাতা, মুম্বাই এবং দিল্লির মতো বড় শহরগুলিতে এই স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। দ্রুত নগরায়ন, যত্রতত্র নির্মাণকাজ, জনবহুল পরিবেশ এবং নিকাশি ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে জল জমার সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে। শারদাকেয়ার-হেলথসিটির ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডঃ নীরজ কুমার জানান, বর্ষায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে আবহাওয়া, মশার দ্রুত বংশবৃদ্ধি এবং শহুরে পরিকাঠামোর একটি সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।

কোন জলে জন্মায় ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা?
অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে যে মশা কেবল নোংরা ও বড় জলাশয়েই জন্মায়। কিন্তু ডেঙ্গু ছড়ানো ‘এডিস’ মশার চরিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। এরা অত্যন্ত অল্প পরিমাণে জমে থাকা পরিষ্কার জলেও অনায়াসে ডিম পাড়তে পারে।

ফুলের টব, ফেলে দেওয়া পাত্র, পুরনো টায়ার, ওয়াটার কুলার কিংবা বন্ধ হয়ে যাওয়া ড্রেনের জমে থাকা জল এই মশার বংশবৃদ্ধির প্রধান আখড়া।

টানা বৃষ্টির পর যখনই হঠাৎ রোদ ও ভ্যাপসা গরম ফিরে আসে, তখনই মশার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।

উচ্চ তাপমাত্রা মশার শরীরের ভেতর ডেঙ্গু ভাইরাসের বৃদ্ধির গতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

বাড়ির ভেতরেও লুকিয়ে থাকে বিপদ
শুধু শহরের অলিগলি নয়, আমাদের অবহেলার কারণে বাড়ির ছাদ, ব্যালকনি, বাগান বা বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা জলও মশার প্রজনন ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মানুষ কাছাকাছি থাকায় এই রোগ খুব দ্রুত ছড়ানোর সুযোগ পায়। একজন সংক্রামিত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর সেই মশা সহজেই সুস্থ মানুষের শরীরে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে।

ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ ও সতর্ক সঙ্কেত
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা অত্যন্ত জরুরি। নিচে উল্লেখিত উপসর্গগুলি দেখা দিলে অবিলম্বে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন:

হঠাৎ করে উচ্চ তাপমাত্রা বা জ্বর।

তীব্র গা-হাত-পায়ে ব্যথা এবং শারীরিক ক্লান্তি।

নাগাড়ে বমি ভাব বা পেটে তীব্র যন্ত্রণা।

নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত।

প্রচণ্ড দুর্বলতা, অস্থিরতা কিংবা জ্বর কমার পরেও হঠাৎ করে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া।

পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়ার মাধ্যমেই একমাত্র এই বিপজ্জনক রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *