পিৎজায় ফাঙ্গাস, দুর্গন্ধ! সাড়ে তিন বছরের মেয়ের আবদারে খাবার কিনে চরম বিপদে বাবা

খাস কলকাতা থেকে শুরু করে জেলা—ছোট-বড় থেকে নামী-অনামী বহু রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে ভেজালের রমরমা ছবি বারবার সামনে আসছে। সম্প্রতি কলকাতার ৫৪টি রেস্তোরাঁ ও দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করে দিয়েছে পুরসভা। কোথাও মিলেছে পচা খাবার ও ফ্রিজারে রাখা বাসি মাংস, আবার কোথাও বিরিয়ানিতে মেশানো হয়েছে দেওয়ালের রং! এমনকি ছাতা ধরা মোমোর ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। আর এবার ঠিক এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল দুর্গাপুরে।
দুর্গাপুরে পিৎজায় ফাঙ্গাস ও দুর্গন্ধের অভিযোগ
পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারের একটি নামী বেকারি সংস্থার বিরুদ্ধে পিৎজায় ফাঙ্গাস ও পচা গন্ধ পাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ ও প্রশাসন সাময়িকভাবে দোকানটির ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়েছে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায় এবং গোটা ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছে দোকান কর্তৃপক্ষ।
দোকানের এক কর্মীর সাফাই, ওই প্রোডাক্টে কিছুটা গন্ধ ছিল। সাধারণত দোকান থেকে জিনিস বিক্রি না হলে তা রিভার্স রিটার্ন যাওয়ার নিয়ম রয়েছে, তবে কোনো কারণে হয়তো পিৎজাটি রয়ে গিয়েছিল। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
আতঙ্কিত ক্রেতা ও শিশুর নিরাপত্তা
অভিযোগকারী ক্ষুব্ধ পিতা জানান, তাঁর সাড়ে তিন বছরের ছোট্ট মেয়ে পিৎজা খাওয়ার বায়না করায় তিনি বেনাচিতি বাজারের ওই দোকান থেকে ৬৫ টাকা দিয়ে একটি পিৎজা কেনেন। দোকান থেকে সেটি গরম করে দেওয়ার পর তিনি তা বাড়ি নিয়ে যান। মেয়ে অর্ধেক খাওয়ার পর তাঁর সন্দেহ হওয়ায় তিনি নিজে একটু খেয়ে দেখেন এবং সঙ্গে সঙ্গে ভয়ংকর দুর্গন্ধ পান।
সঙ্গে সঙ্গে বাকি পিৎজা নিয়ে তিনি দোকানে ফিরে আসেন। কর্মীরা গন্ধ শুঁকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও ক্রেতার প্রশ্ন, “টাকা ফেরত দিলেই কি সব মেটে? আমার ছোট্ট মেয়ের যদি বড় কোনো ক্ষতি হতো, তবে তার দায় কে নিত?”
রাজ্যজুড়ে খাদ্য সুরক্ষা অভিযান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
মঙ্গলবার থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিশেষ ‘খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ’। এই বিশেষ সপ্তাহে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানগুলিতে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানে একের পর এক ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে আসছে।
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, পচা বা অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বমি, ডায়ারিয়া, পেট ব্যথা বা অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের ভেজাল ও ক্ষতিকর খাবার পেটে গেলে লিভার ও কিডনির ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী অসুখ তো বটেই, এমনকি জীবন পর্যন্ত বিপন্ন হতে পারে। তাই উৎসবের মরশুমের আগে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের এই কড়া নজরদারি অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।