ইনস্টাগ্রামের প্রেমে পড়ে চরম পরিণতি! ডেটিংয়ের ফাঁদে ডেকে এনে যুবককে যা করল মামা, জানলে শিউরে উঠবেন!

মধ্যপ্রদেশের পন্না জেলার বৃজপুর থানা এলাকায় সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে তৈরি হওয়া একটি বন্ধুত্বের পরিণতি হয়েছে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও ভয়ংকর। ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের জেরে প্রাণ হারাতে হয়েছে এক যুবককে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে খোদ প্রেমিকার মামার বিরুদ্ধে।
ইনস্টাগ্রামের বন্ধুত্ব ও প্রেমের ফাঁদ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রাম নানকী নিবাসী সন্দীপ গৌড়ের সঙ্গে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পরিচয় হয়েছিল পাশেই এক গ্রামের তরুণীর। অল্পদিনের মধ্যেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা একেবারেই মেনে নিতে পারেননি ওই তরুণীর মামা নীরজ ওরফে নল্লু গৌড়। বারবার বারণ করা সত্ত্বেও তাদের যোগাযোগ বন্ধ না হওয়ায় এক অদ্ভুত ও বিপজ্জনক ছক কষেন ওই অভিযুক্ত মামা। অভিযোগ, নিজের ভাগ্নীকে ব্যবহার করেই সন্দীপকে একটি ‘লাভ ট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করেন তিনি।
খাতের খোঁজে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন
গত ৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ওই তরুণী ফোন করে সন্দীপকে তাঁর বাড়ির পেছনের খেতগুলোতে দেখা করার জন্য ডেকে পাঠান। সরল বিশ্বাসে সন্দীপ সেই নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর মাত্রই সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা নীরজ ও তাঁর এক সহযোগী রাজবাহাদুর তাঁকে আক্রমণ করে।
অভিযোগ রয়েছে, দুই অভিযুক্ত মিলে সন্দীপকে জোর করে ধরে ফেলেন এবং টেনেহিঁচড়ে পার্শ্ববর্তী একটি জঙ্গলের গভীরে নিয়ে যান। সেখানে পাথর দিয়ে তাঁর মুখ ও মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর অপরাধের সমস্ত প্রমাণ লোপাট করার উদ্দেশ্যে মৃতদেহটি জঙ্গলের ভেতরে चट्टান বা পাথরের দেওয়ালের মাঝে গভীর কোনো ফাটলে লুকিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত
সंदीप अचानक নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় পরিবার থানায় সন্ধান চেয়ে খবর দেয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর পরিবারের তরফ থেকে নিখোঁজ ডায়েরি করা হলে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। কল ডিটেইলস এবং মোবাইলের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করতেই থ্রেড ধরে এগোয় পুলিশ। অবশেষে দীর্ঘ তল্লাশির পর গত ১২ সেপ্টেম্বর জঙ্গল থেকে সন্দীপের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
পন্নার এডিশনাল এসপি বন্দনা সিং চৌহান জানিয়েছেন, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত নীরজ ওরফে নল্লু গৌড়কে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অপরাধে ব্যবহৃত রক্তমাখা পাথর ও মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক নাবালিকাকেও পুলিশি অভিরক্ষায় নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় যুক্ত অপর অভিযুক্ত রাজবাহাদুর এখনও পলাতক রয়েছে। তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ার মিষ্টি সম্পর্ক কীভাবে এমন এক রক্তক্ষয়ী পরিণতি ডেকে আনল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।