‘মাদ্রাসা মানেই কি সন্ত্রাসবাদের কারখানা?’ বুদ্ধদেবের পুরোনো বার্তা টেনে ত্বহাকে পাল্টা কড়া তোপ বিজেপির!

রাজ্য সরকারের অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশের পর থেকেই চড়ছে রাজনীতির পারদ। ২৫২টি মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধের সিদ্ধান্ত এবং আরও ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করার পর এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘মুসলিমবিরোধী চক্রান্ত’ ও ‘জুলুম’ বলে আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিলেন তিনি। তাঁর সাফ দাবি, পরিকাঠামো বা নথিতে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হোক, কিন্তু কোনোভাবেই শিক্ষার দরজা বন্ধ করা যাবে না।

ফুরফুরা থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ত্বহা সিদ্দিকী বলেন, “মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত সরাসরি মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার। মাদ্রাসায় কেবল ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয় না, সাধারণ পাঠ্যক্রমও পড়ানো হয়। বহু গরিব ছাত্রছাত্রী এখানে পড়াশোনা করে। ২৫২টি প্রতিষ্ঠান একলপ্তে বন্ধ করে দিলে এই শিশুদের ভবিষ্যতের কী হবে?”

বন্ধ নয়, সরকারি অনুমোদনের দাবি

পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানে সমস্যা বা অনিয়ম থাকলে তা চিহ্নিত করে শুধরে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন:

  • ভুল সংশোধন: পাঠদান বা পরিকাঠামোয় কোনো ত্রুটি থাকলে তা শোধরাতে নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করা হোক।

  • সরকারি মান্যতা: যে মাদ্রাসাগুলির সরকারি অনুমোদন নেই, সেগুলিকে বন্ধ না করে সরকারি নীতিমালার অধীনে এনে সঠিক পরিচালন ব্যবস্থার সুযোগ দেওয়া হোক।

  • সামাজিক ঐক্যের বার্তা: ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষ অন্য ধর্মকে ভালোবাসতে ও শ্রদ্ধা করতে শেখে, যা সামাজিক মেলবন্ধনের ভিত্তি।

‘সন্ত্রাসবাদী তৈরির কারখানা!’ বিজেপির পাল্টা আক্রমণ

তবে ত্বহা সিদ্দিকীর এই অবস্থানকে একহাত নিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক প্রসেনজিৎ বাগ। সরকারি পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, “মাদ্রাসাগুলি যে দুর্নীতির আখড়া এবং সন্ত্রাসবাদী তৈরির কারখানা— তা প্রথম স্বীকার করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তৎকালীন সময়ে চাপের মুখে তিনি পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন বলেই বাংলায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছিল।”

বিজেপি বিধায়কের আরও অভিযোগ, কোনো নিয়ম-নীতি বা সরকারি নির্দেশ না মেনে সমাজকে বিভাজনের কাজ করছিল এই প্রতিষ্ঠানগুলি। তাই রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও সুরক্ষার কথা ভেবেই এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।

রাজ্য সরকারের এই কড়া সিদ্ধান্ত এবং ফুরফুরা বনাম বিজেপির পাল্টা বাকযুদ্ধে অনুমোদনহীন মাদ্রাসা ইস্যুটি যে এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম উত্তপ্ত বিষয় হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *