পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল: ৬০ জন সেরা ‘হীরক দ্যুতি’ খুঁজতে কলকাতায় ফুটবল অ্যাকাডেমি গড়ার ডাক মিঠুনের!

বাংলার ফুটবল আবার তার পুরনো ঐতিহ্য ফিরে পাক, রাজ্য থেকে উঠে আসুক বিশ্বমানের উদীয়মান তারকারা—এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এবার বড় পদক্ষপ নিলেন মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে গড়ে উঠতে চলেছে ‘বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি’ (Bengal Football Academy)। সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলার ফুটবলে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের এই মেগা ঘোষণা করেন বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা।

এদিনের এই বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে মিঠুন চক্রবর্তীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বাংলার ফুটবলের একাধিক প্রবাদপ্রতিম প্রাক্তন তারকা—কম্পটন দত্ত, মিহির বসু এবং অমিত ভদ্র।

“১৫ বছর মাঠ পাইনি, অবশেষে স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে”:

অ্যাকাডেমি গড়ার দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে মহাগুরু কিছুটা আক্ষেপের সুরে জানান, এই উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর বহু পুরনো। কিন্তু বিগত বছরগুলিতে প্রশাসনিক নানা জটিলতা ও অসহযোগিতার কারণে মাঠ মেলেনি।

তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে অবশেষে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে চলেছে। মিঠুনের স্পষ্ট বক্তব্য—প্রয়োজনীয় সব ধরণের পরিকাঠামো তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। সরকার টেন্ডার ডেকে মাঠ হস্তান্তর করলেই কাজ চূড়ান্ত রূপ পাবে। একাধিক বিকল্পের মধ্যে থেকে প্রপার কলকাতার বুকেই একটি মাঠ বেছে নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল: বাছাই করা হবে ৬০ জন সেরা রত্ন

এই অ্যাকাডেমির মূল লক্ষ্যই হলো—তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে আনা। মহাগুরু জানান, প্রাক্তন প্রখ্যাত ফুটবলারদের একটি বিশেষ স্কাউটিং টিম রাজ্যের প্রতিটি জেলায় গিয়ে খেলোয়াড় বাছাই করবেন।

  • কাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে: শহরের পাশাপাশি গ্রামের প্রতিভাবান কিশোর, পাহাড়ের ফুটবল প্রেমী তরুণ এবং জঙ্গলমহল ও বিভিন্ন আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের উদীয়মান খেলোয়াড়দের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হবে।

  • ভবিষ্যৎ রূপরেখা: প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ৬০ জন সেরা ফুটবলারকে বেছে নিয়ে এই বিশ্বমানের অ্যাকাডেমিতে আবাসিক প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করা হবে।

মিঠুন চক্রবর্তী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এই ৬০ জন তরুণ তুর্কি জাতীয় পর্যায়ের জুনিয়র দলে খেলার মতো নিজেদের নিখুঁতভাবে তৈরি করে ফেলবে।

কলকাতার বুকে বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি তৈরি হলে বাংলার ময়দান যে ফের নতুন প্রতিভায় রঙিন হয়ে উঠবে, সে বিষয়ে আশাবাদী ক্রীড়ামহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *