দিদির বাড়ি থেকে বেরিয়েই ভ্যানিশ! নিখোঁজ নাবালিকার খোঁজে কলকাতা হাইকোর্টের নজিরবিহীন নির্দেশ

২০১৭ সালের এক সকালে দিদির বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ৯টি বছর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের বাসিন্দা সুরাইয়া গাজি নামের সেই ১৭ বছরের নাবালিকা আর ঘরে ফেরেনি। দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্য পুলিশ ওই কিশোরীর কোনো সুলুকসন্ধান দিতে না পারায় অবশেষে কঠোর পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ নিখোঁজ তরুণীকে খুঁজে বের করতে পুরো তদন্তের ভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর (CBI) হাতে তুলে দিয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও পুলিশের ব্যর্থতা
মামলার নথি ও আইনজীবী সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল মথুরাপুরের লালপুর গ্রামে নিজ দিদির বাড়ি থেকে মেজদির বাড়ি যাওয়ার কথা বলে সকাল ৯টা নাগাদ বেরিয়েছিল ১৭ বছরের সুরাইয়া। কিন্তু তার পর থেকেই সে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় খোঁজ করেও তার কোনো পাত্তা মেলেনি।
ঘটনার পরদিনই, অর্থাৎ ২১ এপ্রিল ২০১৭ সালে নাবালিকার জামাইবাবু আবু জাফর মোল্লা মথুরাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরিবারের সন্দেহ ছিল, সুরাইয়াকে কোনো পাচার চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে দীর্ঘ দিন কেটে গেলেও পুলিশের তদন্তে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ২০১৯ সালে বাধ্য হয়ে কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করে পরিবার।
হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ ও সিবিআই ‘সিট’ গঠন
টানা ৯ বছর ধরে পুলিশের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সোমবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি আর্যক দত্তের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এবার এই মামলার তদন্ত করবে সিবিআই।
আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে:
-
বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT): সিবিআই-কে অবিলম্বে একজন পুলিশ সুপার (SP) পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তল্লাশি অভিযান চালাতে হবে।
-
নথি হস্তান্তর: রাজ্য পুলিশকে এতদিন পর্যন্ত সংগৃহীত সমস্ত মামলার নথিপত্র অনতিবিলম্বে সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
স্ট্যাটাস রিপোর্ট: তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত রিপোর্ট বা ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ তৈরি করে চার সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে জমা দিতে হবে সিবিআই-কে।
চার সপ্তাহ পর এই হেবিয়াস কর্পাস মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে। ৯ বছর ধরে নিখোঁজ থাকা মেয়েটি আদৌ বেঁচে আছে কি না, নাকি কোনো আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের শিকার হয়েছে— সিবিআই তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর এখন সেই উত্তরই খুঁজছে সুরাইয়ার পরিবার।