মমতা প্রাক-শর্ত মানেননি! প্রতীক মেলেনি, তাও কার জোরে নন্দীগ্রামে বাজি ধরলেন ঋতব্রত?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার হাইভোল্টেজ দুই কেন্দ্র— নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন টানটান উত্তেজনা। গতকাল কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার তাদের পাল্টা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘নব তৃণমূল’ বা তৃণমূলের বিদ্রোহী অংশ।

জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী:

  • রেজিনগর: ঋতব্রত শিবিরের হয়ে লড়াই করবেন সফিউজ্জামান শেখ

  • নন্দীগ্রাম: তাদের বাজি মহম্মদ এতেসামুল হক

জোড়াফুল ও দলের নাম নিয়ে অনড় ঋতব্রত নির্বাচন কমিশনে তৃণমূল কংগ্রেসের আসল ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে দুই শিবিরের টানাপোড়েন এখনও অমীমাংসিত। তা সত্ত্বেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের প্রার্থীরা ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর ব্যানারে এবং ঘাসের ওপর জোড়াফুল প্রতীকেই মনোনয়ন জমা দেবেন ও ভোটের প্রচার চালাবেন।

প্রতীক জট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ঋতব্রত বলেন, “আমরাই তো আসল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। তাই ওই নামেই মনোনয়ন জমা হবে। প্রতীক জট মেটানোর দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের, আমরা সেই ঝক্কি নেব কেন? কমিশনের ওপর আমাদের পূর্ণ ভরসা আছে।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই উপনির্বাচনে তাদের আসল লড়াই শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে।

BengalInfo.com

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে আগের বক্তব্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন আবারও মনে করিয়ে দেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে যদি নন্দীগ্রাম আসন থেকে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতেন, তবে তারা কোনো প্রার্থী দাঁড় করাতেন না। কিন্তু মমতা সেই সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় তারা পূর্ণ শক্তিতে নির্বাচনে নামছেন।

কালীঘাট শিবিরের পূর্বঘোষিত প্রার্থী: উল্লেখ্য, গতকালেই কালীঘাট তৃণমূলের তরফে দুই কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। কালীঘাট শিবিরের হয়ে নন্দীগ্রামে লড়াই করছেন সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রবিউল আলম চৌধুরী

১৬ সেপ্টেম্বরের অগ্নিপরীক্ষা নির্বাচন কমিশন আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতীক সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র ও বক্তব্য জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ঘটনাচক্রে, আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র জমার শেষ দিনও এই ১৬ সেপ্টেম্বর। ফলে কমিশন শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের পক্ষে রায় দেয় কিংবা কোনো নতুন প্রতীক বরাদ্দ করে কি না, সেদিকেই নজর এখন পুরো রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *