২৫% ডিএ হলেই বেসিকের সঙ্গে মার্জ? ৩ মাস অন্তর ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে তোলপাড়!

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতনে কি তবে বড়সড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে চলেছে? অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠন ও তার কাজ শুরু হতেই একে একে সামনে আসছে একাধিক চাঞ্চল্যকর দাবি। বর্তমানে যেখানে বছরে দু’বার মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) পুনর্বিবেচনা করা হয়, সেখানে এবার তিন মাস অন্তর অর্থাৎ বছরে ৪ বার ডিএ বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী সংগঠনগুলি।

কমিশন যদি কর্মী সংগঠনগুলির এই প্রস্তাব ও সুপারিশ মান্য করে, তবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সার্বিক আয় ও জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পজিটিভ প্রভাব পড়বে।

জোড়কদমে চলছে কমিশনের বৈঠক:

অষ্টম বেতন কমিশন ইতিমধ্যেই রাজ্যভিত্তিক বৈঠক ও আলোচনা প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে। চেন্নাই ও পুদুচেরির প্রাথমিক পর্বের পর, কমিশনের সদস্যরা পরবর্তী আলোচনার জন্য চণ্ডীগড় বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখানে কর্মচারীদের পেনশনভোগী অ্যাসোসিয়েশন ও ইউনিয়নগুলি তাঁদের বেতন কাঠামোর নতুন প্রস্তাব জমা দেবে। এরপর আগামী ৭ ও ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে বসবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা, যেখানে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, ডিএ এবং হাউস রেন্ট অ্যালওয়্যান্স (HRA) নিয়ে বিশদ দরকষাকষি হতে চলেছে।

বছরে ৪ বার ডিএ বৃদ্ধির আসল যুক্তি:

বর্তমানে প্রতি বছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ও খুচরা মুদ্রাস্ফীতির সূচক মেনে ডিএ ঘোষণা করা হয়। তবে কর্মী ইউনিয়নগুলির যুক্তি—দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধির কারণে কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে বছরে দু’বারের বদলে প্রতি তিন মাস অন্তর (বছরে মোট ৪ বার) মহার্ঘ ভাতা সংশোধন করা উচিত।

২৫ শতাংশ ডিএ হলেই বেসিকের সঙ্গে সংযুক্তির প্রস্তাব:

সংগঠনগুলির আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো—যখনই মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ ২৫ শতাংশের ঘর পার করবে, তখনই সেই ডিএ-কে সরাসরি মূল বেতনের (Basic Pay) সঙ্গে যুক্ত করে দিতে হবে।

এর সরাসরি লাভ হলো—বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) এবং যাতায়াত ভাতা (TA)-সহ অধিকাংশ সুযোগ-সুবিধা হিসাব করা হয় মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে। ফলে বেসিক পে বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য تمام ভাতার পরিমাণ লাফিয়ে বাড়বে। ‘অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম এমপ্লয়িজ ফেডারেশন’ (AINPSEF) এবং ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অব জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি’ (NC-JCM) যৌথভাবে এই দাবি কমিশনের কাছে তুলে ধরেছে।

৭ বছরে কীভাবে দ্বিগুণ হতে পারে লেভেল-৬ কর্মীর বেতন?

কর্মী সংগঠনগুলির এই গাণিতিক ফর্মুলা মেনে চললে সপ্তম বেতন কমিশনের লেভেল-৬ পর্যায়ের একজন কর্মী (যার বর্তমান প্রারম্ভিক বেসিক ৩৫,৪০০ টাকা), তাঁর আয় আগামী কয়েক বছরে অভাবনীয় হারে বাড়বে:

  • নতুন বেসিক: অষ্টম বেতন কমিশনে ২.১ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ধরা হলে, সংশোধিত মূল বেতন হবে ৭৪,৩ ৪০ টাকা

  • ইনক্রিমেন্ট ও ডিএ হিসাব: বার্ষিক ৭% ইনক্রিমেন্ট এবং গড়ে ৪% হারে ডিএ বৃদ্ধির অনুমান ধরলে, ২০৩৩ সালের ১ জানুয়ারি নাগাদ মূল বেতন পৌঁছাবে প্রায় ১,১৯,৩৭৪ টাকায়

  • চূড়ান্ত হিসাব: সেই সময়ে ডিএ-র হার প্রায় ২৮% ধরা হলে ডিএ বাবদ মিলবে প্রায় ৩৩,৪২৫ টাকা। ফলে মূল বেতন ও ডিএ মিলিয়ে মোট মাসিক বেতন দাঁড়াবে আনুমানিক ১,৫২,৭৯৮ টাকা—যা ২০২৬ সালের সংশোধিত বেতনের দ্বিগুণেরও বেশি!

তবে এই সমস্ত হিসাবই কর্মচারী সংগঠনগুলোর তোলা দাবি ও প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। শেষ পর্যন্ত কমিশন সরকার সমীক্ষা চালিয়ে ঠিক কোন সুপারিশ পেশ করে, এখন সেদিকেই চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন দেশের লাখ লাখ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *