শুধু কোলেস্টেরল নয়! হার্টের ৫টি নীরব শত্রু তিল তিল করে ডেকে আনছে বড় বিপদ?

হৃদরোগের কথা উঠলেই অধিকাংশ মানুষের মাথায় সবার আগে আসে উচ্চ কোলেস্টেরলের কথা। রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বা এলডিএল (LDL) মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে যে হার্টের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়ে কারোরই দ্বিমত নেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্রের সার্বিক সুস্থতার ক্ষেত্রে কেবল কোলেস্টেরলের রিপোর্ট দেখলে পুরো ছবিটা স্পষ্ট হয় না। শরীরের অন্দরে লুকিয়ে থাকা আরও বেশ কিছু সমস্যা এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ভুলত্রুটিও হৃদরোগের অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

১. কিডনি ও হৃদযন্ত্রের গভীর যোগসূত্র

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি এবং হৃদযন্ত্র একে অপরের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যুক্ত। কিডনি যদি ঠিকমতো কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তবে শরীরে অতিরিক্ত জল ও ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ জমতে শুরু করে। এর ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং হৃদযন্ত্রের উপর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি চাপ পড়ে। আবার দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে তা কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

২. উচ্চ রক্তচাপ বা ‘নীরব ঘাতক’

উচ্চ রক্তচাপকে বহু ক্ষেত্রেই ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। কারণ, শুরুর দিকে এর কোনো স্পষ্ট উপসর্গ বা লক্ষণ সচরাচর প্রকাশ পায় না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রক্তচাপ উচ্চ মাত্রায় থাকলে হার্টকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্রের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেলিওর কিংবা স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই শুধু কোলেস্টেরল পরীক্ষা করাই যথেষ্ট নয়, নিয়মিত রক্তচাপ মাপা অত্যন্ত জরুরি।

৩. রক্তে শর্করার মাত্রা ও ডায়াবেটিস

রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘসময় ধরে উচ্চ থাকলে শরীরের ছোট-বড় সমস্ত রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে হার্ট ও কিডনি উভয় অঙ্গের উপরেই। বিশেষ করে ডায়াবেটিসের সঙ্গে যদি উচ্চ রক্তচাপ কিংবা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা যুক্ত হয়, তবে হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েকশো গুণ বেড়ে যায়। তাই শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রক্তচাপ, ওজন এবং কিডনির কার্যকারিতার দিকেও সমান নজর রাখা দরকার।

৪. ধূমপান ও অতিরিক্ত ওজন

ধূমপান সরাসরি রক্তনালির মারাত্মক ক্ষতি করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি তরতরিয়ে বাড়িয়ে দেয়। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং নিয়মিত ফাস্টফুড বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাসও হৃদযন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

৫. সচেতনতা ও করণীয়

হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে কেবল কোলেস্টেরল কমানোর পেছনে ছুটে লাভ নেই। এর জন্য রক্তচাপ, শর্করা, ওজন, কিডনির স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান—সবকিছুর দিকে একসঙ্গে নজর দিতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হাঁটাচলা বা হালকা শরীরচর্চা, ধূমপান বর্জন, খাবারে নুন ও চিনির পরিমাণ কমানো এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। তবে রক্তপরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে নিজে থেকে কোনো ওষুধ শুরু বা বন্ধ না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *