দেখা না করলে আত্মহত্যার হুমকি! ইন্দোরে ব্যবসায়ী প্রেমিকের হোটেলেই রহস্যমৃত্যু তরুণীর

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে সোনिला শর্মা নামের এক তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিশি তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, মৃত সোনিলা শর্মার সঙ্গে শহরের এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী দীপক খান্ডেলওয়ালের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে এই সম্পর্কের কথা দীপকের পরিবারের কানে পৌঁছালে পারিবারিক চাপ ও সামাজিক মর্যাদার কথা বলে দীপক সোনিলার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেন।

দীপক তাঁর সঙ্গে দেখা করা কমিয়ে দেওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সোনिला। সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের জেরে তিনি ইন্দোরে চলে আসেন এবং দীপকের সঙ্গে দেখা করার জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। প্রাথমিক তদন্তে বিষ খাওয়ার সন্দেহ করা হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে গলায় ফাঁস লেগে মৃত্যুর বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

কল রেকর্ড ও মেসেজে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য:
তদন্তের সময় পুলিশ সোনिला এবং দীপকের মধ্যে হওয়া কথোপকথনের কল রেকর্ড ও বেশ কিছু চ্যাট মেসেজ উদ্ধার করেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই কথোপকথন থেকে স্পষ্ট যে, সোনिला বারবার দীপককে দেখা করার জন্য তাগাদা দিচ্ছিলেন। এমনকী, দীপক দেখা করতে না এলে তিনি চরম পথ বেছে নেবেন অর্থাৎ আত্মঘাতী হবেন বলেও হুমকি দিয়েছিলেন।

পুলিশের দাবি, এই হুমকির পরেই দীপক তিলক নগর এলাকার একটি হোটেলে সোনিলার সঙ্গে দেখা করতে যান। বর্তমানে ঠিক সেই সাক্ষাতের সময় হোটেলের কামরায় আসলে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সাক্ষাতের সময়ই হঠাৎ অসুস্থতা:
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে দীপক জানিয়েছেন যে, সাক্ষাতের সময় হঠাৎই সোনিলার শরীর খারাপ হতে শুরু করে। তাঁর দাবি, সোনিলার তীব্র ঘাম, অস্বস্তি ও ছটফটানি শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এই আকস্মিক ঘটনায় ভয় পেয়ে দীপক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জেরায় স্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য এমওয়াই হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা রুজু করে দীপক খান্ডেলওয়ালকে টানা জেরা করে চলেছে। মৃতার মোবাইল ফোন, কল ডিটেইলস, টেক্সট মেসেজ সহ সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি হোটেলের রেজিস্ট্রি ও সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ:
সোনिला ও দীপকের ওই শেষ সাক্ষাতে ঠিক কী নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল এবং কোন পরিস্থিতিতে ওই তরুণীর মৃত্যু হলো, তা জানতে মরিয়া পুলিশ। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *