‘১৫ বছর সরকার কিছুই দেয়নি!’ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে নতুন স্বপ্নের কথা শোনালেন মিঠুন চক্রবর্তী!

বাংলার ফুটবলে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে এবং তাদের সঠিক প্রশিক্ষণ দিতে ‘বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি’ (Bengal Football Academy) তৈরির ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন বিশিষ্ট অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই অ্যাকাডেমি গড়ার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আনেন তিনি। এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিঠুনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ফুটবলার কম্পটন দত্ত, মিহির বসু এবং অমিত ভদ্র। মূলত রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিভাবান ফুটবলারদের বাছাই করে তাদের এই অ্যাকাডেমিতে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অতীতের আক্ষেপ ও বর্তমান সরকারের সহযোগিতা
সাংবাদিক বৈঠকে পুরনো দিনের কথা স্মরণ করে মিঠুন জানান, বহু বছর আগেই তিনি বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে তাকে কোনো সহযোগিতা করা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মিঠুনের কথায়, “আমরা এখানে বসেছি বেঙ্গল ফুটবল একাডেমি খোলার জন্য। আপনারা জানেন যে অনেক বছর আগে থেকেই এটা নিয়ে চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু গত ১৫ বছর এই সরকার আমাদের কিছুই দেয়নি। বিশেষ করে আমার কথা ভেবেই কিছু দেয়নি। মাঠ চেয়েছি, মাঠও দেয়নি, কিছুই মেলেনি।”
তবে বর্তমানে সরকারের কাছ থেকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছে বলেই দাবি করেছেন তিনি। মিঠুনের বক্তব্য, বর্তমান সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী তথা ক্রীড়ামন্ত্রীর ইতিবাচক মনোভাবের ফলেই এই কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। তাঁরা সমস্তরকম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
কীভাবে হবে খেলোয়াড় বাছাই?
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে প্রতিভাবান ফুটবলারদের চিহ্নিত করতে মাঠে নামবে প্রাক্তন ফুটবলারদের একটি বিশেষ দল। সেখান থেকে মোট ৬০ জন তরুণ খেলোয়াড়কে বেছে নেওয়া হবে। এই প্রসঙ্গে মিঠুন বলেন, “গ্রামের ছেলেরা যেমন থাকবে, শহরের ছেলেরাও থাকবে। বিশেষ করে আমাদের আদিবাসী ভাইয়েরা এবং পাহাড়ের যত ভালো খেলোয়াড় রয়েছে, পাহাড়ি ও আদিবাসী এলাকা থেকে তাঁদের আনা হবে। এভাবেই ৬০ জনকে নিয়ে আমরা তৈরি করব আমাদের বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি। আমার ইচ্ছে, আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে এরা জুনিয়র দলে খেলার মতো তৈরি হয়ে যাবে।”
কোথায় তৈরি হবে অ্যাকাডেমি?
অ্যাকাডেমি তৈরির পরিকাঠামো নিয়ে ইতিমধ্যেই জোরকদমে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। মিঠুন জানিয়েছেন, কলকাতার বুকেই এই পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে শুধু সরকার টেন্ডার ডেকে মাঠটি হস্তান্তর করার অপেক্ষায় রয়েছে। কয়েকটি মাঠের তালিকা থেকে আলোচনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট মাঠ চূড়ান্ত করার কাজও প্রায় শেষের পথে। মহাগুরুর এই নতুন ফুটবল প্রজেক্ট যে বাংলার ক্রীড়াজগতে বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।