“একবিন্দু রক্ত না ঝরিয়েই কাশ্মীর সমস্যা সমাধান!” অমিত শাহের মুখে কোন বড় বার্তার বিস্ফোরণ?

আসন্ন ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশজুড়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC) লাগু করতে চলেছে এনডিএ সরকার। রবিবার মুম্বইয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এনডিএ সরকারের সফল ২৫ বছরের যাত্রাপথ এবং বিগত ১২ বছরের শাসনকালের অর্জন তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এই জোরালো মন্তব্য করেন।

ইউসিসি এবং তিন তালাক প্রসঙ্গে বড় দাবি:
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই ঐতিহাসিক তিন তালাক প্রথা বাতিল করে মুসলিম মহিলাদের সমানাধিকার সুনিশ্চিত করেছে। এর পাশাপাশি কয়েকটি রাজ্যে ইতিমধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি রূপায়ণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আত্মবিশ্বাসী সুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেন, দেশের ২১টি বিজেপি ও এনডিএ শাসিত রাজ্যে ২০২৯ সালের নির্ধারিত লোকসভা নির্বাচনের আগেই সুচারুভাবে ইউসিসি কার্যকর করা হবে।

বিচার ব্যবস্থা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা:
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ প্রবর্তনের মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করা হয়েছে। এর ফলে বেশ কয়েকটি রাজ্যে মাত্র এক বছরের মধ্যেই অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দিনে যাতে অপরাধের তিন বছরের মধ্যে নিখুঁত বিচার নিশ্চিত করা যায়, সেই মতো পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের শান্তিপ্রক্রিয়া:
জম্মু-কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ ধারা এবং ৩৫এ ধারা প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহ বলেন, একবিন্দু রক্ত না ঝরিয়ে এবং একটিও গুলি না চালিয়ে কাশ্মীরকে অখণ্ড ভারতের মূলস্রোতের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করা হয়েছে। দশকের পর দশক ধরে চলা মাওবাদী রাজত্বের অবসান ঘটানো হয়েছে এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১৪টিরও বেশি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর কথায়, এই অঞ্চলগুলিতে ৯ হাজারের বেশি বিদ্রোহী অস্ত্র ছেড়ে আত্মসমর্পণ করেছেন, যা উত্তর-পূর্বকে উন্নয়নের নতুন আলোয় ফিরিয়ে এনেছে।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, বিমান হানার মতো সাহসী পদক্ষেপগুলির কথা স্মরণ করান। এছাড়া মণিপুরে ১৯৫১ সালকে ভিত্তি করে ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস (NRC) বা নাগরিকপঞ্জি প্রয়োগ করা হবে কি না—সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে অমিত শাহ জানান যে, কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে উত্তর-পূর্বের রাজনৈতিক দল এবং জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সকলের সঙ্গে পরামর্শ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তা যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সামগ্রিক ঘোষণা আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *