বিগ বসের ঘরে পা রেখেই রাজবীরের রাজত্বে থাবা বসাচ্ছেন জীতু কমল? শুরু হলো প্রথম দিনের রেষারেষি!

সপ্তাহান্তে ‘দাদার দরবার’ মানেই টানটান উত্তেজনা এবং একের পর এক চমক। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় এই উইকেন্ডে বিগ বসের ঘরেও দেখা গেল তেমনই এক নাটকীয় পরিবেশ। চলতি সপ্তাহে এলিমিনেশনের তালিকায় সৃজলা গুহ, দুর্নিবার সাহা, দীপেন্দু বিশ্বাস এবং জয়িতার মতো পরিচিত মুখেরা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত দর্শকের রায়ে ঘর থেকে বিদায় নিতে হলো জয়িতাকে। স্বয়ং সৌরভ তাঁর নাম ঘোষণা করার পরেই শুরু হয় আসল ধামাকা।

জয়িতা বিদায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি হিসেবে বিগ বসের ঘরে রাজকীয় মেজাজে পা রাখেন জনপ্রিয় অভিনেতা জীতু কমল। তাঁর এই প্রবেশেই এক লহমায় বদলে যায় ঘরের অন্দরমহলের সমীকরণ। জীতু হাউজে প্রবেশ করতেই হইচই শুরু হয়ে যায়। ভরত কল থেকে শুরু করে অ্যালেক্স—প্রত্যেকেই ছুটে এসে তাঁকে স্বাগত জানান। মজার বিষয় হলো, সঞ্চালক সৌরভের সামনে সায়কের ছবি দেখে পূর্বে কিছুটা অনীহা প্রকাশ করলেও, ঘরের অন্দরমহলে ঢুকে সেই সায়ককেই উষ্ণ আলিঙ্গনে ভরিয়ে দিতে দেখা যায় জীতুকে।

তবে এই আনন্দের আবহের মাঝেই প্রতিযোগীদের মনে তৈরি হয়েছে চাপা উত্তেজনা। বিশেষ করে জীতুর এই এন্ট্রি যে শক্তিশালী প্রতিযোগীদের জন্য একটি বড় বিপদের ঘণ্টা, তা স্পষ্ট। আর এই অ্যালার্মের শব্দ সবচেয়ে বেশি ধাক্কা দিয়েছে প্রতিযোগী রাজবীরের মনে। বিগ বসের ঘরে এতদিন রাজবীর নিজেকে ‘আলফা মেল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেও, জীতুর উপস্থিতিতে সেই সাম্রাজ্যে বড় ধরনের ভাগ বসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

সেই রেষারেষির প্রথম ঝলকও দেখা গেছে জীতু ঘরে প্রবেশের অল্প সময়ের মধ্যেই। রাজবীরের শারীরিক গঠনের প্রশংসা করার ছলে হঠাৎই তাঁর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন জীতু এবং নিছক রসিকতা করেই তাঁর হাত ধরে টান দেন। এই আচরণে বেজায় বিরক্ত হন রাজবীর। তিনি সোজাসাপ্টা প্রশ্ন করে বসেন, “এ কী! হাত ধরে টানছ কেন? আমি কি বলেছি তোমাকে আমাকে টানতে?”

পরিস্থিতি কিছুটা অস্বস্তিকর হয়ে উঠলে জীতু তা ঠান্ডা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু রাজবীর নাছোড়বান্দা; কড়া ও কাটা কাটা গলায় তিনি বলে ওঠেন, “হবে হবে। সব হবে। বিগ বস পাঞ্জা লড়ার ব্যবস্থা করে দেবে। এত তাড়া কীসের?”

যদিও প্রাথমিক এই উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুই হেভিওয়েট প্রতিযোগীকে পাশাপাশি বসে ঘরের বিভিন্ন নিয়মকানুন নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। রাজবীর নিজে থেকেই নতুন সদস্য জীতুকে গেম প্ল্যান বুঝিয়ে দেন। আলোচনার শেষে দুজনের সুরেই শোনা যায় আসল যোদ্ধার হুংকার—“লড়াকু প্রতিযোগীকে আউট করে কোনো মজা নেই, তাঁকে টিকিয়ে রেখে লড়ে খেতাব জিতলেই আসল মজা!”

জয়িতার বিদাশের ধাক্কা কাটার আগেই জীতু ও রাজবীরের এই সম্ভাব্য মহাযুদ্ধ বিগ বসের ঘরের পারদকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই হেভিওয়েট তারকা মুখোমুখি হওয়ায় আগামী পর্বগুলোতে উত্তেজনার পারদ আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *