১৬ বছরের নাবালিকাকে বিয়ে করতে আসতেই আসরে পুলিশ! বিয়ের পিঁড়ি থেকে সোজা জেলে খোদ বর?

আঠারো বছরের কম বয়সি মেয়েদের বিয়ে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না— সরকারের এই কড়া বার্তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল মুর্শিদাবাদ জেলায়। রাজ্যে নাবালিকা বিয়ের তালিকায় শীর্ষস্থানে থাকা এই জেলাতেই এবার এক ১৬ বছরের কিশোরীর বিয়ে রুখে দিল সাগরপাড়া থানা পুলিশ। বিয়ের সমস্ত তোড়জোড় যখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক সেই মুহূর্তেই পুলিশের আকস্মিক হানায় পণ্ড হয়ে গেল পুরো আয়োজন।
কীভাবে ফাঁস হলো এই বিয়ের পরিকল্পনা?
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তৎপরতা:
-
স্বেচ্ছাসেবীর অভিযোগ ও পুলিশি হানা: সাগরপাড়া থানার হরেকৃষ্ণপুর গ্রামে ষোলো বছরের এক নাবালিকার সঙ্গে ঘটা করে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। খবর পেয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মী অর্পিতা হালদারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তড়িঘড়ি ওই গ্রামে হানা দেয় পুলিশ।
-
গ্রেফতার পাত্র ও উদ্ধার নাবালিকা: পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেই অভিযুক্ত পাত্র মুক্তার হোসেনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী বর এবং উভয় পরিবারের বিরুদ্ধে কঠোর মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি, ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে তার নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার স্বার্থে বহরমপুরের একটি হোমে পাঠানো হয়েছে।
-
শুভেন্দুর কড়া হুংকার: সম্প্রতি এই ধরনের বিষয় নিয়ে সরব হয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, আঠারো বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দিলে স্বামীদের সরাসরি পকসো আইন ও কঠোর ধারায় জেলে পাঠানো হবে এবং এই অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে পুলিশি অভিযানে উত্তেজনায় বদলে যাওয়ায় গোটা এলাকায় এখন ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।